বাংলাদেশ ডেস্ক
বগুড়ায় সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সোমবার বেলা ১১টায় শহরের হোটেল নাজ গার্ডেনে তরুণ সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত ‘সাংবাদিকতার একাল-সেকাল’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ বিষয়গুলো জানান।
প্রধান অতিথি আতিকুর রহমান রুমন বলেন, সাংবাদিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পেশা, যা সুনাম রক্ষা করে পেশাগত আস্থা বজায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, বগুড়ার কৃতি সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় বগুড়ার উন্নয়নে সচেষ্ট ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি সংবাদপত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এটি তাকে সাংবাদিক সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় সাংবাদিকদের দক্ষতা ও মানোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজর আকর্ষণ করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হবে। পাশাপাশি বগুড়ায় সাংবাদিকতা বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ-এর শাখা স্থাপনের সম্ভাব্যতার বিষয়ে আলোচনা হবে এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের জন্য মৌলিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক লালু এবং বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ৯০-এর দশকের স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের আহ্বায়ক ও বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ।
আলোচক হিসেবে বিভিন্ন দিক থেকে সাংবাদিকতার বিষয়গুলো নিয়ে বক্তব্য রাখেন গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. খন্দকার আলমগীর হোসেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বগুড়ার সভাপতি প্রকৌশলী মো. সাহাবুদ্দিন সৈকত এবং স্টার নিউজের নিউজ এডিটর সুমন তালুকদার।
আলোচনা সভায় তরুণ প্রজন্মের প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সিনিয়র সাংবাদিক মোহন আখন্দ। বক্তারা সাংবাদিকতার ইতিহাস, পেশাগত নৈতিকতা, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং স্থানীয় গণমাধ্যমে তরুণদের ভূমিকা প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা সাংবাদিকতা বিষয়ে শিক্ষাগত সুযোগ বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে বগুড়ার সাংবাদিক সমাজের পেশাগত মানোন্নয়ন ও তরুণ সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।