বাংলাদেশ ডেস্ক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের করা চুক্তি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করবে, তবে এ ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সোমবার (২৩ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-এর সঙ্গে হওয়া চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার থাকবে। তিনি বলেন, চুক্তির বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং এ প্রক্রিয়ায় দেশের সার্বভৌম স্বার্থ কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন হবে না।
এ সময় রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি পূর্ববর্তী সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তার দাবি, অতীতে এ ইস্যুতে কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল হয়ে উঠেছে, ফলে সমস্যা সমাধানে নতুন কৌশল গ্রহণ প্রয়োজন।
রোহিঙ্গা ইস্যুর বর্তমান প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই সংকট কেবল মানবিক নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ইস্যু হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য শুধু দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। মায়ানমার-এর বর্তমান পরিস্থিতি এবং রাখাইন অঞ্চলের নিরাপত্তা প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে বহুপাক্ষিক সমন্বয় জরুরি। তিনি জানান, রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফেরত পাঠানোর জন্য তাদের নিজ দেশে উপযুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মায়ানমারে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি রাখাইন অঞ্চলে সক্রিয় আরাকান আর্মির সঙ্গেও বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে উভয় পক্ষের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার চেষ্টা চলছে।
রোহিঙ্গা সংকটের আন্তর্জাতিক মাত্রা তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি এখন বৈশ্বিক একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। তাই এ সমস্যা সমাধানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি আসিয়ান দেশগুলোর পাশাপাশি চীন, ভারত, মুসলিম বিশ্ব এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, এককভাবে বাংলাদেশের পক্ষে এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। অতীতে কেবল দ্বিপাক্ষিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা সফল হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমান সরকার বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে একটি টেকসই সমাধানের পথ খুঁজছে বলে জানান তিনি।
সামগ্রিকভাবে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়ন ও রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় সরকারের কৌশলগত অবস্থান এবং বহুমাত্রিক কূটনৈতিক উদ্যোগের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে আসে।