জাতীয় ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশি ওমরাহ যাত্রীরা গভীর ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিমান চলাচলের অসুবিধার কারণে প্রায় ৪০ হাজার বাংলাদেশি দেশে ফেরার পথে আটকা পড়েছেন। সরাসরি ফ্লাইটের সীমিততা ও উচ্চ ভাড়ার কারণে দেশফেরা অনেকের জন্য অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। দেশে ফেরার একমুখী টিকিটের খরচ বর্তমানে প্রায় এক লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। অতিরিক্ত অর্থ ও থাকার ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীরা সরকারের কাছে ত্বরিত সহায়তা চেয়েছেন।
প্রতি বছর লাখো ধর্মপ্রাণ মানুষ হজ বা ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরব যান। পবিত্র মক্কা ও মদীনার তাওয়াফ, বিশ্বনবীর রওজা মোবারক জিয়ারত এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থান দর্শনের জন্য এই ভ্রমণ করা হয়। সাধারণভাবে হজ মৌসুমের আগে-পরে সৌদি আরব যাতায়াত স্বাভাবিক থাকে, তবে চলতি বছর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে পরিস্থিতি অনির্দিষ্ট হয়ে গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া দেশে ফেরার শিডিউল অনুযায়ী যাত্রীরা ফিরতে পারছিলেন না। শত শত ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় প্যাকেজের বাইরে থাকা যাত্রীদের সৌদি-ঢাকা রুটের একমুখী টিকিটের খরচ প্রায় এক লাখ টাকার সমান হয়েছে। অনেক যাত্রী পর্যাপ্ত অর্থ না থাকার কারণে বিপাকে পড়েছেন। আটকা পড়া যাত্রীরা জানিয়েছেন, হোটেল বা খাবারের ব্যবস্থা নেই এবং ছোটদের জন্য অবস্থার তীব্রতা আরও বেড়েছে।
হজ এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩.৫ থেকে ৪ লাখ মুসল্লি ওমরাহ করতে যান। চলমান সংকটের মধ্যে প্রায় ৩০–৪০ হাজার বাংলাদেশি আটকা পড়েছেন। হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার জানান, আটকা পড়া যাত্রীদের হোটেল প্যাকেজ শেষ হয়ে গেছে এবং খাবারের অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে। তিনি উল্লেখ করেন, তাদের দ্রুত দেশে ফেরানোর জন্য বিমান মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছে সাশ্রয়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অবস্থানগত ও নিরাপত্তা জটিলতার কারণে ডেডিকেটেড ফ্লাইট পরিচালনা তৎক্ষণাৎ সম্ভব না হলেও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিলে দুটি এয়ারক্রাফট ডেডিকেটেড করে ইভাকুয়েশন সম্ভব। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, যেসব এয়ারলাইন্স সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে তাদের টিকিটের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সিট সীমিত। তাই যাত্রীরা সাধারণভাবে বিকল্প রুটে যেতে পারছেন না।
ওমরাহ যাত্রীদের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ট্রানজিট ফ্লাইটের অভাবে অনেকেই বাড়তি খরচসহ দেশে ফিরতে পারছেন না। ঈদের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। হজ এজেন্সি ও সংশ্লিষ্টরা সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে আটকা পড়া বাংলাদেশি ওমরাহ যাত্রীদের নিরাপদে দেশে ফেরানো যায়।