গাজীপুর ডেস্ক
গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় মাজার বস্তিতে রোববার রাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। এই অভিযানে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং মাদকদ্রব্যসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানটি রাত ১১টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত চলে। এতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বিজিবি, সিআইডি এবং পিবিআইসহ একাধিক পুলিশ টিম অংশ নেয়। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিন ধরে মাজার বস্তিতে চলমান মাদক বিক্রি, চুরি-ছিনতাই এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত দুষ্কৃতিকারীদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার জানান, মাজার বস্তির এমন কয়েকটি ঘর চিহ্নিত করা হয়েছিল, যেখানে মাদক সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের তথ্য ছিল। অভিযানের সময় এসব ঘরে তল্লাশি চালানো হয়। তিনি বলেন, “আমরা এই এলাকায় নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছি এবং যে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছি।”
পুলিশের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, অভিযানের সময় আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও দেশীয় অস্ত্র পরবর্তী তদন্তের জন্য জব্দ করা হয়েছে। কমিশনার আরও বলেন, এই অভিযান এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
অভিযানটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য নিরাপত্তা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাদক ও সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ড কমাতে পুলিশের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। আগে থেকেই এলাকাটি মাদকদ্রব্য বিক্রির জন্য পরিচিত ছিল এবং স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল যে অপরাধীরা দিনের আলোয়ও সুষ্ঠুভাবে তাদের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।
এই ধরনের যৌথ পুলিশ অভিযান শুধু গ্রেপ্তার ও আলামত উদ্ধারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমাজে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধমূলক চক্র ভেঙে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুলিশ জানায়, ভবিষ্যতেও টঙ্গীসহ গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের নিয়মিত অভিযান চলবে।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, সম্প্রদায়ের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা রক্ষায় পুলিশের এই উদ্যোগ প্রয়োজনীয়। তারা আশা করছেন, অভিযানের ফলে মাজার বস্তি ও আশপাশের এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্য হারে কমবে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, ধীরে ধীরে এই ধরনের বিশেষ অভিযান এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হবে এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। পুলিশ আরও সতর্ক করে দিয়েছে যে, মাদক, চুরি বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।