আইন আদালত ডেস্ক
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, কনস্যুলার অ্যাক্সেস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল ভারতের কলকাতায় যেয়ে ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই প্রধান আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) ইতিমধ্যেই মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাংলাদেশ এই ঘটনায় কনস্যুলার অ্যাক্সেসের জন্য ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
গত ৯ মার্চ প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, কলকাতার উপকমিশনার ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং কনস্যুলার অ্যাক্সেসের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের কাছে যেসব তথ্য আছে, তা যথেষ্ট নয়। কনস্যুলার অ্যাক্সেস পাওয়ার পর আমরা তদন্তের পরবর্তী ধাপে এগোতে পারব। ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্দি বিনিময় চুক্তি রয়েছে। আসামিরা শনাক্ত হলে এই চুক্তির মাধ্যমে তাদের ফেরত আনা সম্ভব হবে।”
এর আগে, ৭ মার্চ দিবাগত রাতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। এ অভিযানটি বাংলাদেশ সীমান্তের নিকটবর্তী বনগাঁ এলাকায় পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তারের পর ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে কনস্যুলার অ্যাক্সেসের অনুমোদন প্রদানের বিষয়টি অনুরোধ করা হয়েছে।
ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত চলমান থাকায়, কনস্যুলার অ্যাক্সেসের মাধ্যমে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদের আসামিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এটি তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মামলার যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ ও তথ্য আদান-প্রদানে দুই দেশের পুলিশ বিভাগের মধ্যে সহযোগিতা শক্তিশালী হবে।
বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায়, আন্তর্জাতিক আইন ও প্রটোকলের সীমারেখা মেনে আসামিদের ফেরত আনার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বলছেন, কনস্যুলার অ্যাক্সেস প্রাপ্তির পর বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল দ্রুত কলকাতায় পৌঁছে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করবে, যা মামলার তদন্তকে আরও কার্যকর এবং দ্রুতগতিশীল করবে।
উল্লেখ্য, ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড দেশে এবং বিদেশে সমানভাবে শোক ও নজর কেড়েছিল। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সহযোগিতায় এই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করছে।