অনলাইন ডেস্ক
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা জানিয়েছেন, বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ রাখা ভারতীয় পর্যটন ভিসা চালুর উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, ভিসা কার্যক্রম কখন চালু হবে তা নির্দিষ্টভাবে জানানো সম্ভব নয়, তবে প্রক্রিয়া চলমান আছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রণয় ভার্মা এ তথ্য জানান। তিনি জানান, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পর্যটন ভিসাসহ অন্যান্য ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে তিনি এ বিষয়ে বলেছিলেন, খুব শিগগিরই দুই দেশের মধ্যে ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে।
হাইকমিশনার জানান, বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে ক্রস বর্ডার পাওয়ার এবং ক্রসবর্ডার এনার্জি সংযোগকে আরও শক্তিশালী করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, উদ্ভাবন এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন বিষয়েও বিস্তারিত আলাপ হয়েছে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রস বর্ডার এনার্জি সংযোগ ও পাওয়ার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্পগুলো গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ লেনদেন বৃদ্ধি পাবে, যা বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং ভারতের অতি-পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহে সহায়ক হবে। এছাড়া, এই সংযোগগুলো দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে।
প্রণয় ভার্মা আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে ভিসা সুবিধা পুনরায় চালু হলে পর্যটন ও ব্যবসায়িক যাতায়াত বৃদ্ধি পাবে। এটি দুই দেশের মধ্যে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে। ভারত বাংলাদেশিদের পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু করলে দ্বিপাক্ষিক পর্যটন শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই আলোচনা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংযোগের অংশ। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পর্যটন ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে। হাইকমিশনারের মতে, উভয় দেশের পক্ষ থেকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হলে দুই দেশের জনগণের উপকারে উল্লেখযোগ্য ফলাফল আসতে পারে।
চলমান আলোচনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়াও, ভিসা সুবিধা পুনরায় চালু হলে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পর্যটন খাতে দ্বিপাক্ষিক বিনিময় বৃদ্ধি পাবে। এটি দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও যোগাযোগ উন্নয়নে সহায়ক হবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারতীয় হাইকমিশনারের এই বক্তব্য বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ক্রস-বর্ডার সংযোগ, বিদ্যুৎ লেনদেন, এবং ভিসা সুবিধা পুনরায় চালুর প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতির নির্দেশ করে।