জাতীয় ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল ১১টায় শুরু হয়েছে। অধিবেশনে অংশ নিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের পর এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তৎপরতায় বর্তমান সময়ের সরকার পতিত হয়। এর প্রভাবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে বিজয়ী দল হিসেবে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে।
নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭টি আসন পেয়ে সংসদের প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে। অন্যদিকে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি এবং ফলে সংসদে কোনো প্রতিনিধিত্ব রাখছে না।
বাংলাদেশ সংবিধানের ধারা অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের বৈঠক আহ্বান করা বাধ্যতামূলক। এই বিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন।
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন দেশের নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন দিক নির্দেশনার সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংসদে প্রধান বিরোধী দলের উপস্থিতি, সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং নির্বাচনে অংশ না নেওয়া প্রভাবশালী দলের অনুপস্থিতি ভবিষ্যতে আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
এই অধিবেশনের মধ্যে সংসদের নিয়মিত কার্যক্রম, কমিটির গঠন, এবং আইন প্রণয়নের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষভাবে নজর দেওয়া হবে সরকারের প্রস্তাবিত নীতি ও বাজেট সংক্রান্ত আলোচনায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সরকারের নীতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে বিরোধী দলের প্রভাব সীমিত থাকবে।
ত্রয়োদশ সংসদ বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচন আয়োজনের পর প্রথম স্থায়ী সাংবিধানিক কাঠামো হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় রাজনীতিতে এই অধিবেশন এক ধরনের বৈষম্যপূর্ণ, তবে সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়ার প্রতিফলন হিসেবে ধরা হচ্ছে।
সাংবাদিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই অধিবেশন দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিরোধী দলের কার্যক্রম, এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।