বাংলাদেশ ডেস্ক
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে সারা দেশে সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ১৪ মার্চ থেকে প্রতি সপ্তাহের শনিবার এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বুধবার এক বার্তায় জানানো হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জনপ্রতিনিধি, সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে নিজ নিজ এলাকায় বসতবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ সাম্প্রতিক সময়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ভোগান্তির শিকার হন এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানিও ঘটে। তবে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও সচেতনতা অবলম্বন করলে এ ধরনের রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের মতে এডিস প্রজাতির মশার কামড়ে মানুষ ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়। এ মশা সাধারণত পরিষ্কার পানিতে জন্মায় এবং ঘরবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানিই এর প্রধান প্রজননস্থল। তাই রোগ প্রতিরোধের জন্য আগাম সতর্কতা এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও কীটতত্ত্ববিদদের মতে, তিন দিনের বেশি কোথাও পানি জমে থাকলে সেখানে সহজেই এডিস মশার বংশবিস্তার ঘটতে পারে। ফলে বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পানির ড্রাম, বালতি, পরিত্যক্ত টায়ার, ডোবা বা অন্য যেকোনো স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানি দ্রুত অপসারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ড্রেন, নর্দমা ও অন্যান্য জলাবদ্ধ স্থানে পানি জমে থাকার সুযোগ কমিয়ে আনতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাসাবাড়ির পানির ট্যাংক সবসময় ঢেকে রাখা এবং নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। তিনি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান, প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার ঘরের ভেতর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে। এতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা সহজ হবে এবং মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি হ্রাস পাবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বার্তায় আরও বলা হয়, আগামী ১৪ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে শহর ও গ্রামাঞ্চলে মশা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে পরিবেশগত ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়ে আসছেন। তাদের মতে, শুধুমাত্র কীটনাশক প্রয়োগের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা হলে দীর্ঘমেয়াদে মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।
বাংলাদেশে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে দেখা যায়। নগরায়ণ, জলাবদ্ধতা এবং অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মশার বংশবিস্তার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত। এ পরিস্থিতিতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সারা দেশে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করলে মশার ঘনত্ব কমানো এবং রোগের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোথাও যেন ময়লা বা স্থির পানি জমে না থাকে সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বাসাবাড়ি এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা হলে এডিস মশার বিস্তার কমানো সম্ভব এবং ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগ থেকে মানুষ নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারবে।