জাতীয় ডেস্ক
জামায়াতে ইসলামী আমিরের উপদেষ্টাকে মন্ত্রীর মর্যাদায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদায়নের সুপারিশসংক্রান্ত একটি চিঠি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনার প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে পাঠানো একটি চিঠিতে ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা বা মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত ফোনালাপসংক্রান্ত তথ্যকে মন্ত্রণালয় ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষে একটি চিঠি ইলেকট্রনিক মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঠান। পরবর্তীতে তিনি একই চিঠি সরাসরি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও হস্তান্তর করেন। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, চিঠিটি জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা ছিল এবং এতে ড. হাসানকে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা বা মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিরোধীদলীয় নেতা তার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে ড. মাহমুদুল হাসানের পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তাকে উল্লিখিত পদে পদায়নের বিষয়টি বিবেচনার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান। চিঠিটির নিচে কেবল বিরোধীদলীয় নেতার স্বাক্ষর রয়েছে বলেও জানানো হয়।
চিঠি প্রকাশ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বিরোধীদলীয় নেতা লিখিতভাবে সম্মতি প্রদান করলে চিঠিটির পূর্ণ পাঠ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে মন্ত্রণালয় প্রস্তুত রয়েছে। এ ধরনের পদায়ন বা নিয়োগের সুপারিশের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবৃতিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, চিঠির বিষয়টি নিয়ে জামায়াতে ইসলামী পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছিল এবং সেখানে জানানো হয় যে উক্ত চিঠি সম্পর্কে দলের আমির অবগত ছিলেন না। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে এ দাবি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের কোনো ফোনালাপ বা যোগাযোগের ঘটনা ঘটেনি।
বিষয়টি সামনে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংসদীয় ব্যবস্থায় বিরোধীদলীয় নেতার ভূমিকা ও ক্ষমতার আওতায় বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ করার সুযোগ থাকলেও মন্ত্রী বা উপদেষ্টা পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। সাধারণত এ ধরনের পদায়নের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।
পররাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত পরামর্শ ও গবেষণাধর্মী কার্যক্রমে বিভিন্ন সময় বিশেষজ্ঞ বা উপদেষ্টা যুক্ত করার নজির রয়েছে। তবে তা সাধারণত সরকারি সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক অনুমোদনের ভিত্তিতেই হয়ে থাকে। এ প্রেক্ষাপটে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে পাঠানো সুপারিশপত্র এবং তা ঘিরে উদ্ভূত বিতর্ক বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে মূলত চিঠি প্রেরণ ও গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত ফোনালাপসংক্রান্ত দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে বিষয়টির পরবর্তী অগ্রগতি নির্ধারিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।