রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও এলাকা থেকে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে স্থাপিত বিলবোর্ড ও ব্যানার দ্রুত সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, “মঙ্গলবার সকালেই প্রধানমন্ত্রী গুলশানের বাসা থেকে বের হয়ে হাতিরঝিলের পুলিশ প্লাজার সামনে থাকা তার ছবি সম্বলিত ব্যানার সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যানার অপসারণ করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, রাজধানীর বিভিন্ন বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ও অভিনন্দন বার্তা সম্বলিত বিজ্ঞাপন দ্রুত অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী কয়েকদিন আগে বিজয় সরণির সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় একটি এলইডি ডিসপ্লেতে তার অভিনন্দন বার্তা প্রদর্শিত হওয়ার খবর দেখার পর তা অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টা ১০ মিনিটে সচিবালয়ে অফিসে উপস্থিত ছিলেন।
দিনের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল জিয়াউল হক এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী উপকূলীয় ও বঙ্গোপসাগর এলাকার জলদস্যুতা, ডাকাতি, অবৈধ পাচার ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় নিয়মিত টহল বাড়ানোর এবং জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
রাজধানীর যান চলাচলের গতিসম্পর্কিত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলার কারণে সড়কে যান চলাচলের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভিআইপি প্রটোকল কমানোর পর যানবাহনের গতি ৪.৫ কিলোমিটার থেকে ৫.৩ কিলোমিটারে উন্নীত হয়েছে। রুমন উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ভিআইপি প্রটোকল না মেনে চলাচল করছেন, যার ফলে যানজট কমে গেছে এবং স্বাভাবিক গতি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছে খুচরা বাজারে মোটা চালের দাম বৃদ্ধির খবর। অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যার প্রভাব ইতিবাচকভাবে বাজারে প্রতিফলিত হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনার ফলে রাজধানীর সড়ক ও বিলবোর্ড নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং খাদ্যপণ্যের বাজার পর্যবেক্ষণে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরণের নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নগরায়ন ও জনসাধারণের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।