বাংলাদেশ ডেস্ক
জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা (লিগ্যাল এইড) জানিয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৯ হাজার ৮২৯ জনকে সরকারি খরচে আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুরুতে জেলা পর্যায়ে অসচ্ছল জনগোষ্ঠীর জন্য আইনি সেবা প্রদানের কার্যক্রম শুরু করা হয়। পরে ঢাকা ও চট্টগ্রামে শ্রমিক আইনি সহায়তা সেল স্থাপন করা হয়। এই দুটি সেলের মাধ্যমে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ২৯ হাজার ৮২৯ জনকে আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২১ হাজার ৯৭১ জনকে সরাসরি আইনি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আইনি সহায়তার আওতায় ৪ হাজার ৪৪৯টি মামলায় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়, যার মধ্যে ৮২০টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এছাড়া বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতির মাধ্যমে ৩ হাজার ৩০৯টি মামলায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১ হাজার ৯২০টি মামলা এডিআর পদ্ধতিতে সমাধান করা হয়েছে।
জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা জানায়, দেশে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও অসমর্থ ব্যক্তিদের বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন’-এর অধীনে এই সেবা প্রদান করা হয়। সংস্থার কার্যক্রম আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে প্রদত্ত আইনি সহায়তা মূলত দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আদালতের বোঝা কমাতে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেলের মাধ্যমে শিল্পকর্মী ও শ্রমজীবীদের দ্রুত এবং কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
সংস্থার প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আইনি পরামর্শ ও মামলার সহায়তার পাশাপাশি এডিআর পদ্ধতির প্রাধান্য বাড়ানোর ফলে আদালতে চলমান বিরোধসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তি পাচ্ছে। এটি দীর্ঘমেয়াদি বিচার ব্যর্থতা কমাতে ও সামাজিক সহমত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
লিগ্যাল এইডের তথ্য অনুযায়ী, আগামীতে আরও বৃহৎ পরিসরে জেলা ও মহানগর এলাকায় আইনি সহায়তা সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশের সব দরিদ্র ও অসচ্ছল জনগণ সরকারি খরচে আইনি সেবা পেতে পারে এবং ন্যায়বিচারের সুযোগ নিশ্চিত হয়।