সারাদেশে ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এই তথ্য জানান।
গতকাল (শনিবার) বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার মিঠাখালি ইউনিয়নের সাহেবেরমেঠ গ্রামে মাদুরপাল্টা বাজার ব্রিজ সংলগ্ন খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি পুনরুজ্জীবনের জন্য খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। তার দূরদর্শী চিন্তা আজও দেশের জন্য প্রাসঙ্গিক এবং অপরিহার্য।
ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম আরও বলেন, দেশের নতুন প্রজন্মের স্বার্থে সবাইকে অন্যায় ও সহিংসতা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং দেশকে নিরাপদ ও বাসযোগ্য রাখতে কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে। তিনি বলেন, “আমরা আজ আছি, কাল থাকব না; কিন্তু এই জনপদ আমাদের সন্তানদের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য রেখে যেতে হবে।”
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার সুমীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নওসীনা আরিফ, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন, মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ শাহিনুর রহমান, স্থানীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মোল্লা সফরুল হায়দার সুজন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, পশুর রিভার ওয়াটারকিপার নূর আলম শেখ এবং সিএনআরএস-এর উপজেলা সমন্বয়কারী নুসরাত জাহান।
জানা গেছে, যুক্তরাজ্য সরকারের ফরেন, কমনওয়েলথ এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)-এর অর্থায়নে সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) বাস্তবায়িত প্রকল্পের আওতায় মোংলা উপজেলায় মাদুরপাল্টা বাজার ব্রিজ সংলগ্ন খালসহ মোট চারটি খালের ৮.৩৪ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ চলছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। কাজ সম্পন্ন হওয়ার শেষ সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে আগামী ২৫ মার্চ।
প্রকল্পটি খাল পুনঃখনন এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, খাল খননের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলে স্থানীয় জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, সেচ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং মাটির ক্ষয় রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া, স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যজীবীদের আয়ের উৎস সুরক্ষায় সহায়তা করবে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা জানান, দীর্ঘমেয়াদে এই উদ্যোগ খাল ও নদীজলাধারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে বন্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি, বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষরোপণ দেশের কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে সহায়ক এবং স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রকে সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
সরকারি সূত্রের মতে, সারাদেশে খাল খনন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন দেশের গ্রামীণ উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে গণ্য হবে।