স্বাস্থ্য ডেস্ক
দেশে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং চিকিৎসকদের পেশাগত উন্নয়ন ও কর্মপরিবেশ উন্নত করতে মন্ত্রণালয় থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে।
রোববার (১ মার্চ) সকালে রাজধানীতে অবস্থিত বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের ইনডাকশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, নবীন রেসিডেন্ট চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান, যা দেশের জন্য আর্থিকভাবে বড় চাপ সৃষ্টি করে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবার পরিধি বাড়াতে হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরি, আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন এবং গবেষণাভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি জানান, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আধুনিক মলিকিউলার ল্যাবরেটরি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংক্রামক ও জটিল রোগ নির্ণয়ে মলিকিউলার প্রযুক্তির ব্যবহার বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের ল্যাব স্থাপিত হলে রোগ নির্ণয় দ্রুত ও নির্ভুল হবে, যা চিকিৎসা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক সংকট নিরসনের বিষয়েও আশ্বাস দেন মন্ত্রী। রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণকালীন আবাসনের ঘাটতি দীর্ঘদিনের সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে চিকিৎসকদের মনোযোগ ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, চিকিৎসা একটি মানবিক পেশা; তাই রোগীর প্রতি দায়বদ্ধতা, দক্ষতা ও সততার সমন্বয় ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে গবেষণা, উচ্চতর প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, মেডিক্যাল শিক্ষাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী অনুরোধ জানিয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হলে ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের দক্ষতা ও মনোযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার প্রভাব সরাসরি রোগীসেবায় পড়বে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাডেমিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে বিশেষায়িত চিকিৎসা ও গবেষণা অবকাঠামো জোরদার করা গেলে বিদেশগামী রোগীর সংখ্যা কমানো সম্ভব। পাশাপাশি আধুনিক ল্যাবরেটরি, পর্যাপ্ত চিকিৎসক-নার্স এবং মানসম্মত প্রশিক্ষণব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে। সরকারের ঘোষিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।