বাংলাদেশ ডেস্ক
ঢাকা মহানগরীতে ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রাথমিকভাবে এক লাখ স্বেচ্ছাসেবী প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (১ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব (দুলু) সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শহরের প্রাথমিক আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে খেলার মাঠ ও স্কুলগুলো চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া ভূমিকম্পের সময় এবং পরবর্তী করণীয় বিষয়ে নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ভূমিকম্প মোকাবেলায় একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। পরিকল্পনায় জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ ব্যবস্থা, জনসচেতনতা কার্যক্রম এবং স্বেচ্ছাসেবীদের ভূমিকা নির্ধারণের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি আরও জানান, এই পরিকল্পনা নিয়ে আগামী ১১ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানায়, ঢাকা মহানগরীতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ভূমিকম্পের প্রাথমিক আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রগুলোতে জরুরি খাদ্য, পানি এবং চিকিৎসা সেবা প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হবে। এছাড়া প্রাথমিকভাবে একটি যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে, যা ভূমিকম্পের সময় এবং পরবর্তী সময়ে দ্রুত তথ্য আদানপ্রদানের জন্য ব্যবহার করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ঘনবসতি ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে ঢাকায় ভূমিকম্পের প্রভাব মারাত্মক হতে পারে। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বেচ্ছাসেবীদের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের এই উদ্যোগ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম করার উদ্দেশ্য বহন করছে।
দূর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে, মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও অনুশীলন আয়োজন করবে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলাধুলার মাঠ এবং অন্যান্য জনসমাগমস্থল ব্যবহার করে জনগণকে ভূমিকম্পকালীন সুরক্ষা ও কার্যক্রম বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো এক এক করে পর্যালোচনা শুরু করেছে, যাতে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ সনাক্ত করা যায়। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে রাজধানীতে প্রাথমিকভাবে স্বেচ্ছাসেবী এক লাখ জনশক্তি নিয়োজিত হয়ে জরুরি কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।