রাজনীতি ডেস্ক
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর প্রথমবারের উপস্থিতি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ সময় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সাংবাদিকদের বলেন, প্রথমবার শহীদ মিনারে আসায় তাদের এ প্রচেষ্টার প্রশংসা জানানো উচিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভুল বোঝাবুঝি থাকলে তা মুছে দিয়ে নতুনভাবে শুরু করার প্রয়াসকে সমর্থন করা উচিত।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, “নতুন নির্বাচিত সরকারের অধীনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারা আনন্দের। আমি প্রথমে মন্ত্রিপরিষদের অংশ হিসেবে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছি এবং পরে দলের পক্ষ থেকেও অংশ নিয়েছি। এর আগে এ ধরনের শ্রদ্ধা জানানো হলেও এবার তা বিশেষভাবে আনন্দদায়ক, কারণ এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে।”
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৩, যা মোহাম্মদপুর ও আশেপাশের এলাকাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে, সেই এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কেও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমার এলাকায় কিছু জায়গার আইনশৃঙ্খলার খারাপ রেকর্ড আছে। আমরা খুব দ্রুত সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনব এবং এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।”
此次 অনুষ্ঠানে, রাজনৈতিক দলগুলো এবং সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ঐতিহ্যকে ধরে রাখার পাশাপাশি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও সমন্বয়মূলক একটি বার্তা প্রদান করেছে। বিশেষ করে, নির্বাচিত সরকারের অধীনে এ ধরনের শ্রদ্ধা প্রদর্শন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকেও ইঙ্গিত দেয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা প্রদর্শনের অনুষ্ঠানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদ দিবস উপলক্ষে এই ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণ এবং সরকার ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে। এবারের উপস্থিতি, যেখানে জামায়াতে ইসলামী প্রথমবার সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে, তা রাজনৈতিক পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সহযোগিতার একটি নতুন দিক ফুটিয়ে তুলেছে।
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দূর করা এবং নতুনভাবে সম্পর্ক গড়ে তোলা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নির্বাচিত সরকারের অধীনে এমন শ্রদ্ধা প্রদর্শন আগামী দিনে রাজনৈতিক সংলাপ ও সামাজিক ঐক্যের প্রসার ঘটাতে সহায়ক হতে পারে।
এই অনুষ্ঠান ও প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ভাষা শহীদ দিবসের গুরুত্বকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে এবং দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে ঐক্য ও সম্মান প্রদর্শনের বার্তা বহন করেছে।