জাতীয় ডেস্ক
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ফুলে-ফুলে সাজানো হয়। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সকাল থেকেই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ শহীদ মিনারে উপস্থিত হন।
সরাসরি পরিদর্শন করলে দেখা যায়, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের দীর্ঘ সারি গঠিত হয়েছে। উপস্থিতরা সবাই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। বাংলাদেশ নগরসেবা কর্পোরেশন (বিএনসিসি) এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের সদস্যরা এ সময় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে দায়িত্বে রয়েছেন।
শ্রদ্ধা জানাতে এদিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন উপস্থিত ছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইডেন মহিলা কলেজ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ছায়ানট, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), উদিচি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশ স্কাউটস। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই শিশুদের নিয়ে শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে এসেছে।
উপস্থিতদের মধ্যে আবদুল হক জানান, এদিন আমাদের প্রেরণার উৎস। তাদের আত্মত্যাগ থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পথ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের ছাত্ররা যখন মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে, এটি ইতিহাসে বিরল ঘটনা। আমরা একমাত্র জাতি যারা মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দিতে বাধ্য হয়েছি।”
এদিন সকাল যত এগিয়েছে, শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। শহীদ মিনারের চারপাশ এবং প্রবেশ পথে সারিবদ্ধ লাইন তৈরি হয়েছে। সামাজিক ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ ছাড়াও সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।
বাংলাদেশে প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১৯৫২ সালের এ দিনে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে মাতৃভাষা বাংলা রক্ষার আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রাণ উৎসর্গ করেন। সেই দিনটি থেকে প্রতিটি বছর ভাষা শহীদের স্মরণে এবং মাতৃভাষার গুরুত্ব উদযাপনের জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও শ্রদ্ধা জানানো হয়।
শহীদ মিনারের পদচারণা এবং ফুলের বেদি দিয়ে সাজানো এলাকায় সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত থাকেন। শিক্ষার্থীরা শিক্ষামূলক এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করেন। এই দিবসের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে ভাষা ও ইতিহাসের প্রতি সচেতন করা হয়।
রাজধানীর নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনগুলো ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করছেন। এমন উৎসবমুখর পরিবেশে শহীদ মিনার যেন ভাষা শহীদের আত্মত্যাগের স্মৃতিসৌধ হয়ে উঠেছে।