আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও বহুভাষাবাদ প্রসারে বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার বিকাল ৫টায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংস্থাটির নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ড. খালেদ এল এনানি শিক্ষাজীবনকে তরুণ প্রজন্মের মাতৃভাষা ও বহুভাষাবাদ চর্চার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হিসেবে উল্লেখ করেন।
ড. এনানি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে পরামর্শক্রমে এবং অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের অংশগ্রহণে মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও প্রসারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বাংলায় বক্তব্য প্রদানকারী বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহার অবদানকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেন এবং বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদের সভাপতি, নির্বাহী পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং মহাপরিচালক একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, যা আয়োজনের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করেছে। রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা স্বাগত বক্তব্যে বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে ইউনেস্কোর কার্যক্রম বিশ্বের মানুষের কাছে তাদের নিজ নিজ ভাষায় পৌঁছানো জরুরি। তিনি মাতৃভাষা সংরক্ষণে শক্তিশালী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং তরুণদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
নির্বাহী পর্ষদের সভাপতি কাতারের রাষ্ট্রদূত নাসের হিনজাব বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং এবারের আয়োজনের জন্য দেশটিকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠান চলাকালীন ‘শান্তি ও টেকসই উন্নয়নে ভাষার ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনায় তানজানিয়ার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী, পূর্ব তিমুরের শিক্ষামন্ত্রী, দক্ষিণ আমেরিকার ইনকা সম্প্রদায়ের কেচুয়া ভাষাবিদ এবং শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। স্পেনের ভাষা গবেষক প্রফেসর ড্যামিয়েন ব্লাসি মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের কিছু বক্তব্য তাদের মাতৃভাষায় উপস্থাপন করেন, যা অনুষ্ঠানকে বহুভাষিক ও বৈশ্বিক এক রূপ দেয়। দিনের শেষভাগে সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশের শিল্পীরা ফোক সংগীত পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। লুক্সেমবুর্গ, আজারবাইজান, মলদোভা, ইউক্রেন, শ্রীলঙ্কা, ব্রাজিল এবং প্যারিসভিত্তিক বিভিন্ন বহুভাষাভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে।
প্রায় দুই শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। মাতৃভাষা সংরক্ষণে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে বলে প্রবাসীরা মন্তব্য করেছেন।此次 আয়োজন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন এবং মাতৃভাষার সংরক্ষণ ও বহুভাষাবাদ প্রসারে বৈশ্বিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।