আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মালদ্বীপের থিলাফুশি আইল্যান্ডের ল্যান্ডফিলে কর্মরত অবস্থায় ২৪ বছর বয়সি প্রবাসী বাংলাদেশি আমিন মিয়া মারা গেছেন। মৃত্যুর ঘটনায় শ্রীলঙ্কান নাগরিক ৩২ বছর বয়সি হেশান মাদুরাঙ্গা দিশানায়েকে মেনিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় এবং দেশটির স্থানীয় আদালত তার ১০ দিনের রিমান্ড ৪৫ দিন বাড়ানোর আদেশ দিয়েছেন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) হেশান মাদুরাঙ্গাকে আদালতে হাজির করা হলে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো বিচারক আমলে নিয়ে রিমান্ড বৃদ্ধি করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের বরাতে জানা যায়, নিহত আমিন মিয়ার ওপর যে খননকারী যন্ত্র (এক্সক্যাভেটর) দিয়ে আঘাতের ঘটনা ঘটেছে, তার পরিচালনা করছিল হেশান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রশাসনের ধারণা অনুযায়ী, গত ২৬ জানুয়ারি থিলাফুশি আইল্যান্ডের ল্যান্ডফিলে কাজের সময় খননকারী যন্ত্রের আঘাতে আমিন মিয়ার মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর পর তদন্তে দেখা গেছে, সিসিটিভি ফুটেজে খননকারী যন্ত্র দিয়ে তার মাথায় একাধিক আঘাত করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, হেশান যন্ত্রটি বন্ধ না করে চালিয়ে যাচ্ছিলেন, যার ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রশাসন জানিয়েছে, যন্ত্রটি ভুলভাবে পরিচালনার কারণে আমিন মিয়ার মৃত্যু হয়েছে এবং এ ঘটনায় হেশানের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য অনুযায়ী, হেশান ওই প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে কর্মরত ছিলেন। যে দিন আমিন মিয়ার মৃত্যু ঘটে, সেদিনই হেশান মালদ্বীপ থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহত আমিন মিয়া দুদিন ধরে কর্মস্থল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরে ২৮ জানুয়ারি রাতে থিলাফুশি আইল্যান্ডের ময়লার স্তূপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি গত ছয় মাস ধরে মালদ্বীপের ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন (ওয়ামকো)-তে কর্মরত ছিলেন।
মালদ্বীপে এ ঘটনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
স্থানীয় আদালতের রিমান্ড আদেশের মাধ্যমে হেশান মাদুরাঙ্গাকে আরও ৪৫ দিন জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের জন্য আটক রাখা হবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যার অভিযোগসহ ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রমাণাদি সংগ্রহের জন্য প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখ্য, মালদ্বীপে প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে ল্যান্ডফিল ও নির্মাণ সংক্রান্ত কাজগুলোতে সুরক্ষা মানদণ্ড না মেনে যন্ত্রপাতি পরিচালনার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। আমিন মিয়ার ঘটনা পুনরায় এই সমস্যার গুরুত্ব প্রকাশ করেছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।