জাতীয় ডেস্ক
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জয়পুরহাটে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বর্তমান সরকার তাদের আত্মত্যাগের রক্তের ঋণ শোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহরে শহরের ডা. আবুল কাশেম ময়দানে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, “বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান—সবই ছিল সাম্য, ন্যায়বিচার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। দীর্ঘ সংগ্রামের পর জনগণের রায়ে গঠিত বর্তমান সরকারই শহীদদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার মাধ্যমে তাদের রক্তের ঋণ শোধ করবে।”
তিনি আরও বলেন, “সালাম-বরকতদের রক্তে ভেজা রাজপথ আমাদের শোষণহীন সমাজের স্বপ্ন দেখিয়েছে। ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল একই—একটি ন্যায়সঙ্গত, সুষম ও সমৃদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে সম্পদের সুষম বণ্টন, আইনের শাসন এবং মেধাভিত্তিক প্রশাসন নিশ্চিত করা হবে। শহীদদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে, যখন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মঞ্চে উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।”
প্রতিমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, প্রশাসনে পদায়ন ও মূল্যায়নের একমাত্র মাপকাঠি হবে সততা, দক্ষতা ও মেধা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ এবং দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। প্রশাসনের সকল স্তরে এই নীতিমালা অনুসরণ করা হবে।”
শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির ফজলুর রহমান সাঈদ, জেলা প্রশাসক মো. আল-মামুন মিয়া, পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব।
এ ছাড়া বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনসমূহ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট, জয়পুরহাট প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর এবং সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। এ উপলক্ষে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করা হয়েছে এবং ভাষা ও স্বাধীনতার লড়াইয়ে তাদের অবদানের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এ ধরনের সমাবেশ এবং সামাজিক অনুষ্ঠান শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ জনগণকে ভাষা আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য ও নাগরিক দায়িত্ববোধ জাগরণের সুযোগ করে দিচ্ছে।