1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজে শিশু আইসিইউ সংকট ও মৃত্যুর ঘটনা শহীদ জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা ও নেতৃত্বের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে জোরদার মনোযোগের ঘোষণা রাজধানীতে স্কুল সময়ের যানজট নিরসনে বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে নির্দেশ বিআইডব্লিউটিসিকে জনবান্ধব ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের নির্দেশনা নুরজাহান খানম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত বাংলাদেশ-সৌদি বৈঠকে হজ ও উমরাহ সেবায় সহযোগিতা জোরদারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভুটান তথ্যপ্রযুক্তি সহযোগিতা জোরদারে আলোচনা আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক মেসি শুরুতেই খেলতে পারেন জাম্বিয়ার বিপক্ষে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর বাজেট বৃদ্ধি, বকেয়া পরিশোধসহ অবকাঠামো ও সরঞ্জাম উন্নয়নে বরাদ্দ

দাউদকান্দির চেকপোস্টে ইয়াবা উদ্ধারের নামে আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৫২ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের টোল প্লাজা এলাকায় পুলিশের চেকপোস্টে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ ইয়াবা যথাযথভাবে জব্দ ও মামলায় অন্তর্ভুক্ত না করে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, উদ্ধার করা এক লাখ পিস ইয়াবার পরিবর্তে মাত্র দুই হাজার পিস দেখিয়ে মামলা করা হয় এবং বাকি ইয়াবা আত্মসাৎ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৭ অক্টোবর দাউদকান্দি টোল প্লাজায় কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দাউদকান্দি থানার একজন উপপরিদর্শক (এসআই) ও তার সঙ্গীয় ফোর্স। তল্লাশিকালে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও পরবর্তী সময়ে মামলার নথিতে দুই হাজার পিস ইয়াবা জব্দ দেখানো হয়। ওই ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয় এবং তদন্ত শেষে ৩০ নভেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার বড় অংশ থানার মালখানায় জমা না দিয়ে অবৈধভাবে বিক্রি করা হয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় পুলিশের কয়েকজন সদস্যের পাশাপাশি একটি বেসরকারি সিন্ডিকেট সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। ওই সিন্ডিকেট পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে চেকপোস্টে তল্লাশি কার্যক্রমে যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিন তথ্য অনুযায়ী, দাউদকান্দি টোল প্লাজা, বলদাখাল, আমিরাবাদসহ আশপাশের এলাকায় নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়। এসব চেকপোস্টে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশের পরিচয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালান বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে যাত্রীদের হয়রানি ও শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগও রয়েছে।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী যানবাহনে তল্লাশির সময় প্রায়ই ইয়াবা উদ্ধার হলেও সেগুলোর সব অংশ জব্দ তালিকায় ওঠে না। অনেক ক্ষেত্রে উদ্ধারকৃত মাদকের বিষয়ে কোনো মামলা না হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় থানার কিছু সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন হয়।

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবরের অভিযানে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি রয়েছে। অভিযানে অংশ নেওয়া একজন চেকার দাবি করেছেন, তিনি নিজেই পুলিশের উপস্থিতিতে এক লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করতে সহায়তা করেছেন। অন্যদিকে অভিযানের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনি যতটুকু ইয়াবা পেয়েছেন সেটুকুই মামলায় দেখিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, তিনি মামলার কাগজপত্র অনুযায়ী তদন্ত সম্পন্ন করেছেন এবং অতিরিক্ত কোনো ইয়াবা উদ্ধারের তথ্য তার জানা নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে আরও কয়েকটি অভিযানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে বাস ও মোটরসাইকেল তল্লাশিকালে হাজার হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার হলেও সেগুলোর বিষয়ে মামলা হয়নি বা জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, থানার মালখানায় জমা দেওয়া মাদকের ক্ষেত্রেও অনিয়ম হচ্ছে। মালখানায় রাখা আসল মাদকের পরিবর্তে নকল বা কম পরিমাণ মাদক সংরক্ষণের অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়েও অনিয়ম রয়েছে। নির্ধারিত রোটেশন অনুযায়ী দায়িত্ব দেওয়ার পরিবর্তে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে চেকপোস্টের ডিউটি বণ্টনের অভিযোগও শোনা যাচ্ছে। এতে করে মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, মাদক ও অপরাধ দমনের লক্ষ্যে চেকপোস্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক বিক্রি বা ভাগবাঁটোয়ারার অভিযোগ সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন। তবে কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

দাউদকান্দি সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বলেন, মাদকের সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং অভিযোগের বিষয়ে তিনি অবগত নন। অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানান তিনি।

অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হলে মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে আস্থা ফিরে আসবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026