বাংলাদেশ ডেস্ক
জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সেবার মান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। শনিবার বিকেলে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাবে জামালপুর ৫০০ শয্যার হাসপাতালের নির্মাণকাজ ও টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হলেও ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের পারস্পরিক দ্বন্দ্বের কারণে তা দীর্ঘকাল বন্ধ ছিল। জনকল্যাণমূলক এই কাজ আটকে রাখার পেছনে স্বার্থান্বেষী মহলের গাফিলতি রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমান হাসপাতালটির সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামালপুরের মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। হাসপাতালের বর্তমান কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা কিংবা বিগত আমলের অকার্যকর ব্যবস্থার উত্তরাধিকারী হিসেবেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে কথা বলেন। বিগত সরকারের সময়ে অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপন করা হলেও জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনার সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তুতি ছিল না বলে তিনি জানান। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিছু নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে জ্বালানি খাতের সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্যাস সরবরাহের লাইন বাতিল করার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার পরিস্থিতি উত্তরণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছে বলে তিনি জানান।
দ্রুত সময়ের মধ্যে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনসহ জ্বালানি খাতের সংকট নিরসনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে। বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় খাতগুলোকে পুনর্গঠন ও জনদুর্ভোগ লাঘবে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
হাসপাতাল পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী ও জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক, সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল হক, জামালপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাফজুর রহমান সোহান, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শামীম আহমেদ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মিয়া প্রমুখ।