খেলাধূলা ডেস্ক
সান মেমেসে লা লিগার চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের কাছে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। স্বাগতিকদের মাঠে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণ ও রক্ষণভাগে অসংগতি প্রদর্শন করে দিয়েগো সিমিওনের দল, যার খেসারত দিতে হয় বড় হারের মাধ্যমে। চলতি মৌসুমে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে মাঠে নামা আর্জেন্টাইন তারকা হুলিয়ান আলভারেজও এই বিপর্যয় রোধে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেননি।
ম্যাচের প্রথমার্ধে উভয় দলের রক্ষণাত্মক খেলার কারণে কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। প্রথমার্ধের খেলা গোলশূন্যভাবে শেষ হওয়ায় দুই দলই ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ার সমীকরণ নিয়ে বিরতিতে যায়। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়। বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের প্রথম দুই মিনিটের ব্যবধানে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের রক্ষণভাগ ভেঙে দুটি গোল আদায় করে নেয় স্বাগতিক অ্যাথলেটিক বিলবাও।
খেলার ৪৬তম মিনিটে সান মেমেস স্টেডিয়ামকে উল্লাসে ভাসিয়ে ম্যাচের প্রথম গোল করেন নিকো উইলিয়ামস। এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই, ঠিক দুই মিনিট পর অর্থাৎ ৪৮তম মিনিটে রবার্ত নাভারো দর্শনীয় এক শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। দ্রুত হজম করা এই দুই গোল অতিথিদের মানসিকভাবে কোণঠাসা করে ফেলে।
দলের এমন বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে ম্যাচে ফেরার তাগিদে ৬০তম মিনিটে কৌশলগত পরিবর্তন আনেন অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ কোচ দিয়েগো সিমিওনে। আক্রমণভাগকে শাণিত করতে মাঠে নামানো হয় সদ্য দলবদল করা আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজকে। তবে মাঠে নেমে কাঙ্ক্ষিত প্রভাব বিস্তার করতে ব্যর্থ হন এই সেনসেশন। বিলবাওয়ের সুসংগঠিত রক্ষণভাগের সামনে অ্যাতলেটিকো ফরোয়ার্ডরা তেমন কোনো গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেননি।
ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে, ৯০ মিনিটে, স্বাগতিকদের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করেন ওইহান সানসেট। এই গোলের ফলে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের বড় ব্যবধানের পরাজয় নিশ্চিত হয় এবং পয়েন্ট টেবিলের লড়াইয়ে তারা পিছিয়ে পড়ে।
এই পরাজয়ের ফলে মৌসুমের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল মাদ্রিদের ক্লাবটি। রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং আক্রমণভাগের কার্যকারিতা নিয়ে কোচ দিয়েগো সিমিওনেকে এখন থেকেই নতুন পরিকল্পনা সাজাতে হবে। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল অ্যাথলেটিক বিলবাও। আগামী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক ফিটনেস নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকেরা।