বাংলাদেশ ডেস্ক
জাতীয় পরিচয় হিসেবে সব নাগরিকের একমাত্র পরিচিতি হবে বাংলাদেশি বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশের সব নাগরিক মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা নৃগোষ্ঠী—যাঁরাই হোন না কেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আচার-অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে পালন করবেন। কিন্তু জাতীয়তার প্রশ্নে দেশের প্রতিটি মানুষ সমান অধিকারভুক্ত বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে পরিচিত হবেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পলাশী মোড় থেকে শুরু হওয়া জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের সংবিধানে সব ধর্মের চর্চা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার সার্বিক দায়িত্ব রাষ্ট্রকে দেওয়া হয়েছে এবং রাষ্ট্র সেই সাংবিধানিক দায়িত্ব সর্বতোভাবে পালন করবে। সংবিধানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করা যাবে না। পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতার সুরক্ষায় দেশের সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয়, উপাসনালয়ের প্রধান এবং উপাসনালয় স্থাপনের পূর্ণ স্বাধীনতাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই নীতি কেবল সংবিধানের পাতায় বা কিতাবে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না সরকার। বাস্তব জীবনেও এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা পুরোপুরি নিশ্চিত করা হবে এবং সেই ঘোষণা ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।
অতীতের রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইবোনদের নিজেদের রাজনৈতিক ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করত। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সেই ভ্রান্ত ধারণা ও মিথ আজ সফলভাবে ভেঙে দিয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যই হবে মূল শক্তি। সবার আগে বাংলাদেশ—এই আদর্শ ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ, এরপর নিজ নিজ ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক বা নৃতাত্ত্বিক পরিচয়। এই দেশ সবার জন্য এবং এর প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে।
সংখ্যালঘু প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে দেশের কোনো মানুষেরই নিজেদের সংখ্যালঘু বা অন্য কোনো হীনম্মন্যতায় ভোগা উচিত নয়। ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন না করে, দেশের সংবিধানসম্মত সমান অধিকারপ্রাপ্ত নাগরিক হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতে হবে। রাষ্ট্র সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এ ধরনের বক্তব্য দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা জোরদার করতে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে জাতীয় ঐক্যের বার্তা প্রচার এবং নাগরিক অধিকারের সমতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘোষণা দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্ম সম্প্রদায়ের হাজারো মানুষসহ বিভিন্ন স্তরের নাগরিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।