অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের বা পিওর গোল্ডের দাম হ্রাসের প্রেক্ষাপটে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, সব ধরনের স্বর্ণের দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ১১৫ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন এই দাম সোমবার সকাল ১০টা থেকে দেশের বাজারে কার্যকর করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই হার বলবৎ থাকবে।
সর্বশেষ মূল্য নির্ধারণ অনুযায়ী, দেশের বাজারে এখন থেকে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি অর্থাৎ ১১.৬৬৪ গ্রাম স্বর্ণের জন্য ক্রেতাদের ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৫৪ টাকা পরিশোধ করতে হবে। এর আগে স্বর্ণের দাম আরও বেশি ছিল, যা থেকে ভরিতে ৪ হাজার ১১৫ টাকা কমানো হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৬৪০ টাকা। অন্যদিকে, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৩৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৮০ টাকা। বাজুস জানিয়েছে, উল্লিখিত দামের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ভ্যাট এবং জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ধারিত মজুরি যুক্ত হবে। অলঙ্কারের ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির পরিমাণে তারতম্য হতে পারে।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাজুস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৫ হাজার ১৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ২০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক bullion বা বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার মূল্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। বিশ্ববাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দামের ওঠানামার প্রভাব সরাসরি দেশের স্থানীয় বাজারে পড়ে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হারের ওপর ভিত্তি করে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রায়শই এ ধরনের মূল্য সমন্বয় করে থাকেন। এর ফলে সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও দেশীয় স্বর্ণশিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগর ও ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারের গতির ওপর গভীর নজর রাখছেন।