1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
আসন্ন ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ কক্সবাজারে সুনির্দিষ্ট মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা পার্বত্য মন্ত্রীর মক্কা প্যাক্ট নিয়ে সময় নিয়ে যাচাই-বাছাইয়ের পর জাতীয় স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার রাজশাহীর হরিয়ানে ঢালারচর এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত, সারাদেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি স্বল্প সময়ের মধ্যে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার আশা সরকারের সাভারের রানা প্লাজা ভবন নির্মাণ দুর্নীতি মামলার রায় ফের পেছাল, নতুন তারিখ ৬ অক্টোবর তিন মাস নিষেধাজ্ঞা শেষে সুন্দরবনে প্রবেশ শুরু হলো জেলে-পর্যটকদের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী : জিয়া উদ্যানে বৃক্ষরোপণ ও মাছের পোনা অবমুক্ত সিলেটে হাম উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, বিভাগে মোট আক্রান্ত ছাড়াল হাজার

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২২ বার দেখা হয়েছে
অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্প্রসারণের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের সহজ শর্তের ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই ঋণের পরিমাণ বেশ বড় এবং এটি দেশের অন্যতম পিছিয়ে থাকা পাহাড়ি অঞ্চলের বিদ্যুৎ খাতের অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ‘সাসটেইনেবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কমিউনিটি এমপাওয়ারমেন্ট ইন দ্য চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার ২৬টি দুর্গম উপজেলায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
প্রকল্পের বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, এর মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের অন্তত ৮৮ হাজার নতুন পরিবার গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রায় ৩৫ হাজার পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে। বর্তমান ভূসংস্থান ও ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে পার্বত্য অঞ্চলের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। এই প্রকল্পের আওতায় আধুনিক ও টেকসই বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা শুধু আলো সরবরাহেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ওই অঞ্চলের মানুষের জীবিকা নির্বাহ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।
প্রকল্পের কারিগরি দিক বিশ্লেෂণে দেখা যায়, এর অধীনে ৮০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার সক্ষমতার ছয়টি নতুন ৩৩/১১ কিলোভোল্ট উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া কম বিদ্যুৎ অপচয়কারী উন্নত কন্ডাক্টর ব্যবহার করে মোট ৫ হাজার ৩২ কিলোমিটার নতুন বিতরণ লাইন স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে পুরোনো ১ হাজার ৮৭৪ কিলোমিটার বিতরণ লাইন, চারটি উপকেন্দ্র, একটি সুইচিং স্টেশন এবং একটি আঞ্চলিক মেরামত কর্মশালা সংস্কার করা হবে। এসব কারিগরি উন্নয়নের ফলে সামগ্রিকভাবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কারিগরি ক্ষতি ও পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং গ্রিডের সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। পরিবেশগত দিক থেকেও এই প্রকল্প বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে, কারণ এর ফলে প্রতিবছর প্রায় ১৯ হাজার ৩০০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন এড়ানো সম্ভব হবে, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এডিবি সূত্রে জানা গেছে, এই ঋণের পাশাপাশি জাপান সরকারের অর্থায়নে এবং এডিবি’র মাধ্যমে পরিচালিত ‘জাপান ফান্ড ফর প্রসপারাস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক’ থেকে ২৭ লাখ ২০ হাজার ডলারের অনুদান দেওয়া হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার এই প্রকল্পে ৩ কোটি ৬৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ৪ কোটি ৫৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার অর্থায়ন করবে। সব মিলিয়ে প্রকল্পের সার্বিক ব্যয় ও কাঠামো পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় ১৮ লাখ ৪০ হাজার মানুষের বসবাস, যার অর্ধেকের বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যায়নের হার ৯৯ শতাংশ হলেও পার্বত্য অঞ্চলে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুতের আওতা তুলনামূলকভাবে বেশ কম। বর্তমানে খাগড়াছড়িতে ৪৯ শতাংশ, রাঙামাটিতে ৪৩ শতাংশ এবং বান্দরবানে মাত্র ৪১ শতাংশ মানুষ গ্রিড বিদ্যুতের আওতায় রয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ২০৩২ সালের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুতের এই হার ৬৮ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে সৌরবিদ্যুৎ ও ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রও প্রশস্ত হবে।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বহুমুখী উপাদানের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে এই প্রকল্প। এর আওতায় ৩০টি সৌরবিদ্যুৎ চালিত নিরাপদ পানির ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে, যা কমিউনিটি সংগঠনগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হবে এবং এর নেতৃত্বে অন্তত ৩০ শতাংশ নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া স্কুল, হাসপাতাল, মন্দির ও ক্লিনিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ ২০টি প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। আয়ের সুযোগ বাড়াতে স্থানীয় অন্তত এক হাজার মানুষকে জীবিকা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং দুই শতাধিক উদ্যোক্তাকে ব্যবসা প্রসারে সহায়তা প্রদান করা হবে। জ্বালানি খাতে কর্মসংস্থান ও দুর্যোগ সহনশীল ব্যবস্থা নিয়ে তিনশ শিক্ষার্থীকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। সার্বিক সেবার মান বজায় রাখতে গ্রাহক অভিযোগ কেন্দ্র, ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং শিশুযত্নকেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যা পাহাড়ি অঞ্চলের সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026