ধর্ম ডেস্ক
আসন্ন ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস এবং ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ও সময়কাল প্রকাশ করেছে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংস্থাগুলো। প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে হিজরি বর্ষপঞ্জি সম্পূর্ণরূপে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় চূড়ান্ত তারিখ পরিবর্তিত হতে পারে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুসারে, ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি, সোমবার থেকে শুরু হতে পারে। চন্দ্রভিত্তিক হিজরি বর্ষপঞ্জির কারণে গ্রেগরিয়ান বা ইংরেজি ক্যালেন্ডারে রমজানের তারিখ প্রতিবছর প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন করে এগিয়ে আসে। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী বছর রমজান মাস নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কিছুটা আগেই শুরু হওয়ার এই পূর্বাভাস পাওয়া গেছে।
রমজান মাস শুরুর আগের দিন অর্থাৎ ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় দেশের আকাশে কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন চাঁদ অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ওই দিন সন্ধ্যায় রমজানের চাঁদ দেখা গেলে সেদিন রাতেই তারাবির নামাজ আদায়ের মাধ্যমে প্রথম রোজা পালনের প্রস্তুতি শুরু হবে এবং পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মুসলমানরা প্রথম রোজা রাখবেন।
সাধারণত হিজরি সনের মাসগুলো ২৯ অথবা ৩০ দিনের হয়ে থাকে। রমজান মাসের স্থায়িত্বকালও নির্ভর করে ২৯ কিংবা ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার ওপর। মাস শেষে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয় পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনক্ষণ। বর্তমান জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১০ মার্চ, বুধবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের বৈজ্ঞানিক হিসাব-নিকাশ ও গাণিতিক প্রাক্কলন থেকে সম্ভাব্য তারিখ আগেভাগে জানা সম্ভব হলেও, ইসলাম ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী রোজা ও ঈদের আনুষ্ঠানিক সূচনা সম্পূর্ণরূপে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। সংশ্লিষ্ট দেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বা ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ খালি চোখে বা আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়ে থাকে। ফলে ৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরুর সম্ভাব্য দিন হিসেবে বিবেচিত হলেও চূড়ান্ত তারিখের জন্য ধর্মপ্রাণ মানুষকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় থাকতে হবে। এই সম্ভাব্য সময়সীমা প্রাক্কলন করে মুসলিম বিশ্ব এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরাও তাদের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করতে শুরু করেছেন।