বিনোদন ডেস্ক
টেলিভিশনের জনপ্রিয় উপস্থাপক ও অভিনেত্রী সামিয়া আফরিন দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে আসছেন। এর আগে কোলন ক্যানসার জয় করলেও সম্প্রতি তার শরীরে নতুন করে জরায়ুর ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি নিয়মিত কেমোথেরাপি নিচ্ছেন। কঠিন এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ভেঙে না পড়ে তিনি আল্লাহর ওপর গভীর আস্থা রেখে সামনের দিনগুলোর মুখোমুখি হচ্ছেন।
সামিয়া আফরিন এর আগে ২৩ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় তিন মাস আগে তার শরীরে নতুন রোগ শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। পরবর্তীকালে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন যে তার শরীরে হাই-গ্রেড কার্সিনোমা বাসা বেঁধেছে।
প্রথমবার ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার সময় তাকে কেমোথেরাপির মুখোমুখি হতে হয়নি। সে যাত্রায় শুধুমাত্র ইমিউনোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থতা লাভ করেছিলেন। তবে এবারের চিকিৎসা পদ্ধতি ও শারীরিক অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। চিকিৎসকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী কেমোথেরাপির প্রভাবে চুল ঝরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এই পরিবর্তনকে নিয়ে হতাশ না হয়ে বরং হাসিমুখে তা মেনে নেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছেন এই অভিনেত্রী। চুল পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সময়মতো নিজেই নতুন হেয়ারকাট সম্পন্ন করেন এবং নিজের নতুন রূপটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।
জীবনকে নতুন একটি দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা দিয়েছেন সামিয়া। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, মহাবিশ্বে কোনো ঘটনাই অর্থহীন নয় এবং প্রতিটি পরিস্থিতির পেছনেই কোনো না কোনো কল্যাণ নিহিত থাকে। তার মতে, সৃষ্টিকর্তার পাঠানো প্রতিটি পরীক্ষা বা আশীর্বাদ মানুষকে আরও পরিণত, সহানুভূতিশীল ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে। ক্যানসারের মতো একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি লড়াই কতটা কষ্টদায়ক, তা কেবল এই পথের যাত্রীরাই অনুধাবন করতে পারেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তার পরিচিত বা কাছের কোনো মানুষকে যেন কখনো এমন কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।
বর্তমানে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা নিয়ে চিকিৎসালয় ও ঘরের মধ্যে নিজের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এই শিল্পী। এই কঠিন সময়ে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন, যাতে আগের মতো মানসিক শক্তি ও ধৈর্য বজায় রেখে তিনি আবারও রোগমুক্ত হয়ে কাজে ফিরতে পারেন। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।