আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির কোম্পানিগুলোকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি নতুন ও কঠোর শুল্ক আরোপের ঘোষণা আসার পর মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই কড়া অবস্থান নেওয়া হলো।
রবিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, নতুন শুল্কের আর্থিক ক্ষতি এড়াতে কানাডীয় কোম্পানিগুলোর উচিত অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সদর দপ্তর ও উৎপাদন কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়া। মার্কিন ভূখণ্ডে কার্যক্রম পরিচালনা করলে কোম্পানিগুলোকে কোনো শুল্ক প্রদান করতে হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আমেরিকার সঙ্গে ব্যবসা করতে হলে কানাডার প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসার এই তাগিদ এমন এক সময়ে এল, যখন দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনা সম্পূর্ণ ভেস্তে গেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দুগ্ধপণ্য ও কাঠসহ নির্দিষ্ট কিছু কানাডীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে হোয়াইট হাউস। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা সরকার। অন্য এক বার্তায় কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও দেশটির কঠোর সমালোচনা করেন ট্রাম্প। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক প্রায় ৯০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক লেনদেন হয়ে থাকে। তবে কানাডা দীর্ঘকাল ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত করে আসছে বলে অভিযোগ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এদিকে ট্রাম্পের এসব নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন কানাডার শীর্ষ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নেতারা। ওন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড সতর্ক করে বলেছেন যে, এই বাণিজ্যযুদ্ধ উভয় দেশের অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ নামকরণের ট্রাম্পের প্রস্তাবিত মন্তব্যও কানাডার পক্ষ থেকে জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, কানাডা যদি এই পরিস্থিতিতে আরও কোনো পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রও এর উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, দুই উত্তরের প্রতিবেশীর এই দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্য দ্বন্দ্ব বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।