আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার কঠোর জবাব দিয়েছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। রবিবার দিবাগত রাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিগুলোতে এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়। এই পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে।
সোমবার ভোরে ইরানের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থায় প্রকাশিত আইআরজিসির আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, এই অভিযানে জর্ডানের কিং হোসেন ও আল–আজরাক বিমান ঘাঁটিতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। আইআরজিসি এই সামরিক অভিযানকে ‘আগ্রাসী শক্তির জন্য শাস্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, হামলায় শত্রুপক্ষের প্রযুক্তিগত ও কারিগরি অবকাঠামো এবং যুদ্ধবিমান মোতায়েনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আইআরজিসি আরও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করার যেকোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হবে। আগ্রাসন চালিয়ে এই ভূরাজনৈতিক হতাশা কাটানো সম্ভব নয় এবং ভবিষ্যতে যেকোনো আগ্রাসনের বিপরীতে আরও কঠোর ও বিধ্বংসী জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে তেহরান।
এর আগে রবিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি লঞ্চার ধ্বংস করে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানায়, জুলাইয়ের শেষের পর এটিই ছিল ইরানের মূল ভূখণ্ডে সরাসরি প্রথম সামরিক হামলা। হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্র মাইন বহনে সক্ষম রকেট নিক্ষেপের প্রস্তুতির অভিযোগে ওই অভিযান পরিচালনা করেছিল মার্কিন বাহিনী। পরবর্তীতে ওই প্রাথমিক হামলায় বেশ কয়েকজন যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিক হতাহত হওয়ার কথা জানিয়ে এর উপযুক্ত প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল আইআরজিসি।
বিশ্লেষকদের মতে, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনা এই ঘটনার মধ্য দিয়ে এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। এর আগে গত জুন মাসে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় একটি সাময়িক কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও জুলাই মাসে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল এবং বাণিজ্যিক নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের জেরে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। এর ফলশ্রুতিতে যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহব্যাপী তীব্র বোমা হামলা ও নতুন করে নৌ অবরোধ আরোপ করে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালির মতো বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল ও বাণিজ্য রুট ঘিরে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং উভয় পক্ষের মাঝে সংযম প্রদর্শনের তাগিদ দিয়ে আসছে। তবে বর্তমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও মধ্যস্থতার উদ্যোগগুলো কার্যকর না হলে এই সংকট পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে বিপন্ন করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।