চট্টগ্রাম — জেলা প্রতিনিধি
স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশ পুনর্গঠন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। দেশের ইতিহাসে তাঁর এই অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। গতকাল রবিবার (৩১ মে) রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার আমানবাজার এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক স্মরণ সভা ও মেজবান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী এবং জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন, উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। অনুষ্ঠানটির সার্বিক আয়োজনে ছিলেন সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের কন্যা এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা।
বক্তব্যে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শকে সমুন্নত রেখে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সার্বিক উন্নয়নে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। দেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্র এবং জনগণকে একটি স্বাবলম্বী জনগোষ্ঠীতে রূপান্তরিত করার যে লক্ষ্য সরকার নির্ধারণ করেছে, তা বাস্তবায়নে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মী সকলে মিলে একযোগে কাজ করছে। বর্তমান সরকার জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কাউকেই নিরাশ করা হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী রাজনৈতিক সচেতনতা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি অতীতের রাজনৈতিক বিপর্যয় ও ক্ষমতার অপব্যবহারের উদাহরণ টেনে নেতাকর্মীদের সততার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে যেন জনবিচ্ছিন্ন হতে না হয় এবং পরবর্তীতে পূর্ণ সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে জনগণের কাছে পুনরায় ভোটাধিকার প্রার্থনা করা সম্ভব হয়। গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের আস্থা অর্জনই মূল চাবিকাঠি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা তাঁর প্রয়াত পিতা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম ছিলেন মাটি ও মানুষের নেতা, যিনি হাটহাজারী আসন থেকে বারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। আজীবন শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের সৈনিক হিসেবে কাজ করা বাবার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তিনিও দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিয়োজিত থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আলোচনা সভা শেষে প্রয়াত নেতৃবৃন্দের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মানে মেজবান অনুষ্ঠিত হয়।