1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
শহীদ জিয়ার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে: ভূমি প্রতিমন্ত্রী মাদক ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে নৈতিক শিক্ষা ও ক্রীড়াচর্চার বিকল্প নেই: পরিবেশমন্ত্রী বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে মে মাসে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি: প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত লবণ প্রয়োগে অবহেলা ও অসচেতনতায় কোরবানির চামড়ার গুণগত মান ব্যাহত মিরপুরে শিশু রামিসা হত্যা মামলা: সোহেল ও স্বপ্নার চার্জগঠন শুনানি শুরু ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পর কৌশলগতভাবে দুর্বল অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি নিরাপত্তা বিশ্লেষকের টেকনাফে পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে ট্রাম্প-শারা ফোনালাপ টানা সাত দিনের ছুটি শেষে বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি শুরু সৌদিতে আরও ৪ বাংলাদেশির মৃত্যু, ফিরতি ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ১১ হাজার হাজি

উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে কমছে পশুর কোরবানি

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ১ জুন, ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক

উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার প্রভাব এবার কোরবানির পশুর বাজারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাক্কলিত চাহিদার তুলনায় দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় কোরবানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ফলে কোরবানিযোগ্য পশুর একটি বড় অংশই অবিক্রীত থেকে গেছে, যা খামারি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের আর্থিক লোকসানের মুখে ফেলেছে। কৃষি অর্থনীতিবিদদের প্রাথমিক ধারণা, সরকারি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবার দেশে অন্তত ১০ লাখ কম পশু কোরবানি হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর মজুত ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। এর বিপরীতে দেশব্যাপী চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। সরকারি প্রাক্কলন অনুযায়ী ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকার কথা থাকলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে, অবিক্রীত পশুর সংখ্যা এই হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। অধিদপ্তর এখনো চূড়ান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ না করলেও জেলা ও বিভাগীয় কার্যালয়গুলোর প্রাথমিক প্রতিবেদন থেকে পশুর চাহিদা ও বিক্রির এই বড় ব্যবধানের চিত্র উঠে এসেছে।

মাঠপর্যায়ের তথ্যে দেখা যায়, ময়মনসিংহ বিভাগে এবার ৫ লাখ ৬০ হাজার কোরবানিযোগ্য পশুর বিপরীতে চাহিদা ছিল ৪ লাখ ৪০ হাজার। তবে বিভাগীয় পশুপালন দপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, কোরবানি হয়েছে আনুমানিক ৩ লাখ ৭০ হাজারটি পশু, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭০ হাজার এবং বিগত বছরের চেয়ে ১৩ হাজার কম। খুলনা বিভাগে ১৪ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি পশু প্রস্তুত থাকলেও কোরবানি হয়েছে ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৫টি, যা নির্ধারিত চাহিদার চেয়ে ২ লাখ ৩৩ হাজার কম। রংপুর জেলায় ২ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৬টি পশুর চাহিদার বিপরীতে কোরবানি হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৬ হাজারটি। চট্টগ্রাম ও বগুড়া জেলাতেও চাহিদার তুলনায় পশুর কোরবানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পাওয়ার তথ্য মিলেছে।

অর্থনীতিবিদ ও খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ডলারের বিপরীতে দেশীয় মুদ্রার অবমূল্যায়নের ফলে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। একই সঙ্গে পশুখাদ্য, ওষুধ ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় কোরবানির পশুর উৎপাদন খরচও অনেক বেড়েছে। ফলে এককভাবে বা বড় আকারের পশু কোরবানির প্রবণতা কমেছে এবং অনেকেই যৌথভাবে বা ভাগে কোরবানি দিতে বাধ্য হয়েছেন। আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণীর একটি বড় অংশ এবার কোরবানি দেওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থেকেছে। বাজারে এবার মাঝারি ও ছোট আকারের পশুর চাহিদাই ছিল সবচেয়ে বেশি।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহজামান খান জানান, মাঠপর্যায় থেকে চূড়ান্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ এখনও চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এবার কোরবানির পশুর মাংসের গড় উৎপাদন খরচ প্রতি কেজিতে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ সাধারণ ভোক্তার নাগালের বাইরে চলে গেছে। বিগত বছরে দেশে ৯১ লাখের বেশি পশু কোরবানি হলেও সামষ্টিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং জমানো অর্থ ব্যয়ে সাধারণ মানুষের সতর্ক অবস্থানের কারণে এবার কোরবানির সার্বিক সংখ্যায় বড় ধরনের পতন ঘটেছে, যা দেশের সামগ্রিক গ্রামীণ অর্থনীতি ও চামড়া খাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

সৌজন্যে: বণিক বার্তা

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026