অনলাইন ডেস্ক
পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে নতুন করে আরও চারজন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের হজে অংশ নিতে গিয়ে এ পর্যন্ত ৪১ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মৃত্যুবরণ করলেন। অন্যদিকে, হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হওয়া ফিরতি ফ্লাইটে ৩১ মে দিবাগত রাত ৩টা পর্যন্ত ১১ হাজার ৬১৩ জন হাজি নিরাপদে দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের আইটি হেল্পডেস্কের নিয়মিত বুলেটিন থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। চলতি বছরের ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়।
আইটি হেল্পডেস্কের বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারী ৪১ জন হাজির মধ্যে ২৭ জন পুরুষ এবং ১৪ জন নারী রয়েছেন। ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় মৃতদের মধ্যে ৩০ জন মক্কায় এবং ১১ জন মদিনায় ইন্তেকাল করেন। সৌদি আরবের স্থানীয় আইন ও ধর্মীয় বিধি মোতাবেক, হজের সময় মৃত্যুবরণকারীদের মরদেহ সৌদি আরবেই দাফন করার নিয়ম রয়েছে।
এদিকে, গত ৩০ মে থেকে শুরু হওয়া ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রমের আওতায় এ পর্যন্ত মোট ২৮টি বিমান বাংলাদেশে পৌঁছেছে। দেশে ফেরা ১১ হাজার ৬১৩ জন হাজির মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার ২৫৩ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজার ৩৬০ জন রয়েছেন। হাজিদের নির্বিঘ্নে ফিরিয়ে আনতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৬টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৮টি এবং ফ্লাইনাস ১৪টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বুলেটিনে হজযাত্রীদের চিকিৎসাসেবা সংক্রান্ত তথ্যে জানানো হয়, হজের আনুষ্ঠানিকতা ও আবহাওয়াগত কারণে অসুস্থ হয়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে এ পর্যন্ত ১৭9 জন বাংলাদেশি হাজি চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। এছাড়া, বর্তমানে আরও ২৬২ জন হাজি মক্কা ও মদিনার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাংলাদেশ হজ মিশন ও চিকিৎসাদল তাঁদের সার্বিক তদারকি করছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে হজের জন্য মোট ৭8 হাজার ৫০০ জন হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ thousand ৯৩৫ জন নিবন্ধিত হন। গত ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ২১ মে পর্যন্ত সৌদি আরবগামী হজযাত্রীদের যাওয়ার ফ্লাইট পরিচালিত হয়। হজের সফল সমাপ্তি শেষে বর্তমানে ফিরতি ফ্লাইট ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।