বাংলাদেশ ডেস্ক
পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত ২৮টি ফিরতি ফ্লাইটের মাধ্যমে মোট ১১ হাজার ৬১৩ জন বাংলাদেশি হাজি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে দেশে ফিরেছেন। আজ সোমবার (১ জুন) পর্যন্ত হজ অফিস ও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে গত ২৬ জুন সৌদি আরবে হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী গত ৩০ মে থেকে ফিরতি হজ ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়।
হজ অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশি হাজিদের নির্বিঘ্নে দেশে ফিরিয়ে আনতে নির্ধারিত তিনটি বিমান সংস্থা একযোগে তাদের ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এখন পর্যন্ত আসা মোট ২৮টি ফ্লাইটের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৬টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এ ছাড়া সৌদি আরবের জাতীয় বিমান সংস্থা সাউদিয়া এয়ারলাইনস ৮টি এবং দেশটির বাজেট এয়ারলাইনস ফ্লাইনাস ১৪টি ফ্লাইটের মাধ্যমে হাজিদের ঢাকায় নিয়ে এসেছে।
হজ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশে ফিরে আসা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গিয়েছিলেন ১ হাজার ২৫৩ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় গিয়েছিলেন ১০ হাজার ৩৬০ জন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর হাজিদের জমজমের পানি বিতরণসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, চলতি বছরের হজ মৌসুমে পবিত্র ভূমি সৌদি আরবে গিয়ে এ পর্যন্ত ৪১ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্তেকালের খবর পাওয়া গেছে। মৃত্যু বরণকারীদের মধ্যে ২৭ জন পুরুষ এবং ১৪ জন নারী রয়েছেন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, তাদের মধ্যে ৩০ জন পবিত্র মক্কা নগরীতে এবং ১১ জন পবিত্র মদিনা শরিফে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। সৌদির স্থানীয় আইন ও ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী ইন্তেকাল করা হাজিদের সেখানেই দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বাংলাদেশের হজ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল গত ১৮ এপ্রিল প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইটের মাধ্যমে এবং হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাওয়ার এই ধারাবাহিকতা বজায় ছিল গত ২১ মে পর্যন্ত। এক মাসব্যাপী এই গমন প্রক্রিয়া শেষে হজ পালন শেষে ফিরতি যাত্রা শুরু হয় ৩০ মে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাজিদের ফিরিয়ে আনার এই ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। সুষ্ঠু ও নিরাপদ হজ ফিরতি যাত্রা নিশ্চিত করতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ কন্ট্রোল রুম এবং চিকিৎসা দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।