রাজনীতি ডেস্ক
ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে নারী ও ছাত্রী বিভাগের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (বিকেএম)। এই বিভাগের অধীনে দেশব্যাপী সদস্য সংগ্রহ অভিযানও চালু করা হয়েছে। সম্প্রতি সংগঠনটির আমির মাওলানা মামুনুল হক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতির মাধ্যমে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ নারীদের এই বিভাগে যুক্ত হওয়ার আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানিয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মূলত তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এগুলো হলো— ‘তা’লীমে দ্বীন’ বা ধর্মীয় শিক্ষা, ‘তাবলীগে দ্বীন’ বা ধর্মের প্রচার-প্রসার এবং ‘তাগলীবে দ্বীন’ বা দ্বীনের বিজয়ী ভূমিকা। এই তিন কর্মসূচির সমন্বিত বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমাজে ইসলামি মূল্যবোধ ও শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় রয়েছে। চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে নারীদের ধর্মীয় ক্ষেত্রে আরও সচেতন এবং সুসংহত করতেই এই নতুন বিভাগের সূচনা করা হয়েছে বলে সংগঠনের নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে দলটির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ও আদর্শিক কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনটি মূলত চার ধাপের একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইসলামি আদর্শকে বিজয়ী করতে চায়। এই রূপরেখার প্রথম ধাপে রয়েছে প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিগত জীবনে আল্লাহর হুকুম ও বিধানের পূর্ণ বাস্তবায়ন ঘটানো। দ্বিতীয় ধাপে পারিবারিক, সামাজিক ও সমষ্টিগত জীবনে সমাজ সংস্কারের মাধ্যমে ইসলামি অনুশাসন ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন সুদৃঢ় করা। তৃতীয় ধাপে যেকোনো ধরনের আধিপত্যবাদী ও অন্যায় কার্যক্রমের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও আদর্শিক চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করা এবং সর্বশেষ ধাপে দেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সামগ্রিক খেলাফত বা ইসলামি শাসনব্যবস্থা কায়েম করা।
সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী সমাজকে সাংগঠনিক কাঠামোর বাইরে রেখে এই বৃহৎ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। ইসলামের ইতিহাসে নারীদের যে অনন্য ভূমিকা ও অধিকার রয়েছে, তা সমসাময়িক সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার তাগিদ থেকেই এই বিশেষায়িত নারী ও ছাত্রী বিভাগ খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নারীদের পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাংগঠনিকভাবে তাদের সুসংহত করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা ব্যবহার করে সদস্য সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে দলটির পক্ষ থেকে একটি অনলাইন ফরমও উন্মোচন করা হয়েছে। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে আগ্রহী নারী ও ছাত্রীরা এই ডিজিটাল ফরম পূরণের মাধ্যমে খুব সহজেই সংগঠনের নারী বিভাগের সদস্য হিসেবে নিজেদের যুক্ত করতে পারবেন। প্রথাগত সাংগঠনিক ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ প্রক্রিয়ার এই সংযোজনকে দলটির আধুনিকায়ন এবং নারী সমাজকে দ্রুততম সময়ে সংগঠিত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশের ইসলামি দলগুলোর মধ্যে নারীদের সুসংহত করার এই প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এই নতুন উদ্যোগ দলটির রাজনৈতিক ভিত্তি তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করতে পারে। তবে করোনাত্তোর ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সদস্য সংগ্রহ অভিযান দেশের সাধারণ নারী ও ছাত্রীদের মধ্যে কতটুকু সাড়া ফেলতে পারে, তা ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির ওপরই নির্ভর করছে।