সারাদেশ ডেস্ক
নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দক্ষ চালক তৈরি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার এবং তাদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। আজ শুক্রবার কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি হলরুমে জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড আয়োজিত এক সচেতনতামূলক সভা ও চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের মাঝে মোট ১১৯টি চেকের মাধ্যমে ৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে সড়ক ও সেতু মন্ত্রী দেশে সড়ক দুর্ঘটনার বর্তমান চিত্র তুলে ধরে বলেন, প্রতিবছর প্রায় ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ চালক এবং জনসচেতনতার অভাবকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তিনটি বিষয়ে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মন্ত্রী আরও জানান, কেবল সাধারণ জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানালেই হবে না, পরিবহন মালিক, চালক এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। রাস্তায় ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন নামানো বন্ধ করতে হবে এবং দক্ষ চালকের হাতেই যানবাহনের দায়িত্ব দিতে হবে।
সড়ক অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ ইন্টারসেকশনগুলোতে আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণ, নিরাপদ ইউটার্ন সুবিধা বৃদ্ধি এবং সড়ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্র হয়তো হারিয়ে যাওয়া স্বজন ফিরিয়ে দিতে পারবে না, তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকবে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নিহত হলে সেই পরিবারকে কীভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সরকার তা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে শিক্ষা, চাকরি ও অন্যান্য নাগরিক সেবায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের আইন মানার মানসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাফিক আইন মেনে চলা, দক্ষ চালক তৈরি এবং যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া।
এর আগে, সকালে আসন্ন ঈদুল আজহার ছুটিকালীন ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্নে করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা-গোমতী সেতু টোল প্লাজা পরিদর্শন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পরিদর্শনকালে তিনি টোল প্লাজার সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করেন এবং ঈদে মহাসড়কে যানজট নিরসন ও যাত্রীসেবা আরও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এ সময় তাঁর সাথে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।