পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আজ শুক্রবার সস্ত্রীক সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। সৌদি আরব সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে রাজকীয় অতিথি (রয়্যাল গেস্ট) হিসেবে তিনি এই রাষ্ট্রীয় সফরে গেছেন। সফরকালে সেনাবাহিনী প্রধান পবিত্র মক্কা ও মদিনা নগরীতে হজের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। ধর্মীয় আচার ও হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ১ জুন তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা গেছে, সেনাপ্রধানের এই সফরটি সম্পূর্ণ আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ। সৌদি সরকারের রাজকীয় অতিথি হিসেবে সফর করায় এই ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টিও প্রতিফলিত হয়। বর্তমান সেনাপ্রধানের এই সফর বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সামরিক ও ধর্মীয় সৌহার্দ্যের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রতি বছরই বাংলাদেশ থেকে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের পাশাপাশি সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা পবিত্র হজব্রত পালনের জন্য সৌদি আরব গমন করেন। সৌদি রাজপরিবার ও সরকারের পক্ষ থেকে মুসলিম দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের সম্মানার্থে বিশেষ আতিথেয়তা প্রদান করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানের এই সফর সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ, যা দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের গভীরতাকে নির্দেশ করে।
আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, সেনাপ্রধানের অনুপস্থিতিতে তাঁর দৈনন্দিন প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক দায়িত্বভার সেনাবাহিনীর নিয়মতান্ত্রিক চেইন অব কমান্ড অনুযায়ী সম্পন্ন হবে। হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষে এবং মদিনায় পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারত করার পর ১ জুন নির্ধারিত সময়েই তাঁর ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের ধর্মীয় সফর মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং দুই বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে আরও সুসংহত করবে।