বিনোদন ডেস্ক
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের স্থগিতাদেশের ওপর মহামান্য হাইকোর্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করায় অবশেষে দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’। গতকাল আদালতের এই আদেশ আসার পর আজ থেকেই দেশের একাধিক প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটির প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। প্রবাস জীবনের রূঢ় বাস্তবতা এবং নানাবিধ সংকটকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটির পরিচালনা করেছেন হাসান জাহাঙ্গীর।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিনেমাটি গত ১৫ মে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। তবে সিনেমাটির প্রধান চরিত্রের অভিনয়শিল্পী চিত্রনায়িকা মৌসুমী এবং অন্যতম কুশলী জেবা জান্নাতের কিছু অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক ও আইনি জটিলতার সৃষ্টি হয়। দুই অভিনেত্রীর দাবি, তারা মূলত একটি নাটকের কাজের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে সেটিকে চলচ্চিত্র হিসেবে রূপ দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটিকে তারা ‘প্রতারণামূলক’ হিসেবে অভিহিত করেন। পরবর্তীতে অভিনেত্রী জেবা জান্নাতের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড সিনেমাটির সেন্সর ও প্রদর্শন সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছিল।
সার্টিফিকেশন বোর্ডের এই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেন চলচ্চিত্রটির পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীর। তিনি বোর্ডের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। শুনানি শেষে গতকাল হাইকোর্ট ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ চলচ্চিত্রের সেন্সর বাতিলের সিদ্ধান্তটির ওপর তিন মাসের জন্য স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। আদালতের এই নির্দেশনার ফলে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনে আর কোনো আইনি বাধা না থাকায় আজ থেকে এর বাণিজ্যিক মুক্তি নিশ্চিত করা হয়।
আইনি জটিলতা নিরসন এবং চলচ্চিত্রটির মুক্তি প্রসঙ্গে পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীর জানান, মহামান্য হাইকোর্টের আদেশক্রমে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমাটির পূর্বের সাময়িক প্রদর্শনী স্থগিতাদেশ স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। বিচারকের অনুমতিক্রমে আজ থেকে সারাদেশে সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অত্যন্ত স্বল্প সময়ের নোটিশে যেসব প্রেক্ষাগৃহের মালিকরা চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং সিনেমাটির পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি নির্মাতা কর্তৃপক্ষ বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।
চলচ্চিত্রটি মূলত অবৈধ উপায়ে প্রবাসে যাওয়ার পর সেখানে টিকে থাকার লড়াই এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে সম্পাদিত চুক্তিভিত্তিক বিবাহের নেতিবাচক দিক ও এর জটিল সামাজিক পরিণতি নিয়ে আবর্তিত হয়েছে। এই সামাজিক ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপটের গল্পে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী। এছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীর নিজে, জেবা জান্নাত এবং প্রবীণ অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা কাজী হায়াৎ।
আজ থেকে দেশের যেসব প্রধান প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি প্রদর্শিত হচ্ছে, তার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে প্রযোজনা কর্তৃপক্ষ। রাজধানী ঢাকার বনানীর সৈনিক ক্লাব, পিলখানার বিজিবি সিনেমা হল, সদরঘাটের আজাদ এবং পুরান ঢাকার গীত সিনেমা হলে চলচ্চিত্রটি দর্শকরা দেখতে পাচ্ছেন। এছাড়া ঢাকার বাইরে কাচপুরের চাঁদ মহল, টঙ্গীর সাবা সোহানা, আড়াইহাজারের চলন্তিকা, কুমিল্লার কে ই সিনেপ্লেক্স, কিশোরগঞ্জের রাজ, সিলেটের নন্দিতা, ফরিদপুরের বনলতা, নাগরপুরের রাজিয়া, মধুপুরের মাধবী, শরীয়তপুরের আলোছায়া, মধুখালীর মধুছন্দা এবং টেকেরহাটের সোনালী সিনেমা হলে চলচ্চিত্রটির নিয়মিত প্রদর্শনী চলছে।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, একজন শিল্পীর কাজের মাধ্যম পরিবর্তন বা নাটককে চলচ্চিত্রে রূপান্তরের অভিযোগ দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে একটি সংবেদনশীল বিষয়। তবে আদালতের এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের ফলে সাময়িকভাবে সংকটের সমাধান হলেও, আগামী তিন মাস পর এই রিটের চূড়ান্ত শুনানিতে চলচ্চিত্রটির ভবিষ্যৎ এবং সার্টিফিকেশন বোর্ডের পরবর্তী অবস্থান কী হবে, তা-ই এখন দেখার বিষয়। আপাতত প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটির বাণিজ্যিক সাফল্য এবং দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার ওপরই এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।