জাতীয় ডেস্ক
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শুরু হওয়া ৭৯তম ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলিতে (বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন) সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বুধবার (২০ মে) সম্মেলনে প্রদত্ত বক্তব্যে তিনি দেশের স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং রোহিঙ্গা সংকটের কারণে সৃষ্ট বহুমুখী চ্যালেঞ্জগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার জাতীয় উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে স্বাস্থ্য খাতকে স্থান দিয়েছে। তবে দেশে এখনও মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭০ শতাংশের বেশি নাগরিককে নিজস্ব তহবিল থেকে মেটাতে হয়, যা অনেক পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত ও দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে সরকার পর্যায়ক্রমে সরকারি স্বাস্থ্য বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি সবার জন্য সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, কার্যকর রেফারাল সিস্টেম ও যুগোপযোগী ডিজিটালাইজেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করে কাজ করছে।
সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সরকার সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, সরকারি ও বেসরকারি খাতের স্বাস্থ্য তথ্যের সঠিক সমন্বয়, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং মানসিক স্বাস্থ্য, প্রতিবন্ধীবান্ধব সেবা ও অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় কার্যক্রম জোরদার করেছে। এর পাশাপাশি জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন পদ্ধতি উৎসাহিত করতে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের এই নেতিবাচক স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. এম এ মুহিত বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশে রোগের ধরণ দ্রুত পাল্টাচ্ছে এবং নতুন নতুন স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের বিদ্যমান চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়া ১.৩ মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা নাগরিকের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি বাংলাদেশের সীমিত স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামোর ওপর একটি বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মানবিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, যার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিরবচ্ছিন্ন ও কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন।
নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ওপর বৈশ্বিক স্বাস্থ্য অর্থায়নের সংকোচন, চলমান সংঘাত ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংকটের মারাত্মক প্রভাবের কথা মনে করিয়ে দিয়ে সম্পদের দক্ষ ও সর্বোত্তম ব্যবহারের তাগিদ দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ করে অসংক্রামক রোগ এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বা অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হারানোর মতো নীরব ঘাতক মোকাবিলায় উন্নত দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর যৌথ ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।