বিনোদন ডেস্ক
সময়ের পরিক্রমায় বিনোদনজগতের প্রতিটি প্রজন্মই নিজস্ব সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বিকশিত হয়। তবে তরুণ প্রজন্মের নতুন ও ভিন্নধর্মী চিন্তাভাবনাই দেশের সংস্কৃতিকে আগামী দিনে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্ট অভিনেতা আজিজুল হাকিম। সম্প্রতি দেশের বর্তমান সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট ও নতুনদের কাজের মূল্যায়ন নিয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তরুণদের এই সৃজনশীল প্রয়াসকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়নের আহ্বান জানান।
প্রবীণ এই নাট্যব্যক্তিত্বের মতে, প্রতিটি যুগেরই একটি নিজস্ব পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি থাকে। বর্তমান সময়ের তরুণরা সেই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নানামুখী সৃজনশীল কাজ করছে, যা দেশের নাট্য ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তিনি মনে করেন, আজকের তরুণরাই আগামী দিনে সংস্কৃতির মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে। তাই তাদের মেধা ও শ্রমকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা প্রবীণদের দায়িত্ব।
নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোর কথা স্মরণ করে আজিজুল হাকিম বিগত কয়েক দশকের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়টি বিশদভাবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, আশির বা নব্বইয়ের দশকে তারা যখন তরুণ হিসেবে অভিনয় জগতে পদার্পণ করেছিলেন, তখনকার কাজের পরিবেশ, প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা এবং সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বর্তমান সময়ের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। সেই সীমিত সম্পদের মধ্যেও তৎকালীন তরুণরা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে দেশের সাংস্কৃতিক ভিত্তি মজবুত করেছিলেন।
আধুনিক যুগের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে এই অভিনেতা বলেন, বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা যে ধরনের তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার মধ্যে বেড়ে উঠছে, তাদের কাজের ধরনও সেই অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়েছে। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং বিশ্বায়নের এই যুগে তরুণরা তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সমাজ ও জীবনকে দেখছে এবং তা তাদের নির্মাণ ও অভিনয়ে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছে। এই নতুন ধারা ও চিন্তাভাবনাকে সাদরে গ্রহণ করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নতুনদের কাজের মান, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠা নিয়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে গুণী এই অভিনেতা জানান, বর্তমানে তিনি নিয়মিতভাবে বহু তরুণ অভিনয়শিল্পী এবং নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করছেন। মাঠপর্যায়ে তাদের কাজের গভীরতা ও গুণগত মান অত্যন্ত প্রশংসনীয়। নতুন এই নির্মাতারা প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিক মানের কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে আমাদের দেশীয় সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে এক বড় পরিসরে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করার জন্য নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাংস্কৃতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজিজুল হাকিমের মতো একজন জ্যেষ্ঠ ও গুণী অভিনেতার এমন ইতিবাচক মূল্যায়ন নতুন প্রজন্মের জন্য বড় ধরনের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। প্রবীণ ও নবীনের এই মেলবন্ধন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলে বাংলাদেশের বিনোদন শিল্প আরও বেগবান ও সমৃদ্ধ হবে। তরুণদের এই সৃজনশীল ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে ভবিষ্যতে দেশীয় নাট্য ও চলচ্চিত্র অঙ্গন আরও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও নান্দনিক সাফল্যের মুখ দেখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।