বাংলাদেশ ডেস্ক
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বাংলাদেশের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সঙ্গে ব্রিটিশ কাউন্সিলের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার অনুষ্ঠিত এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, পাঠ্যক্রম পরিমার্জন এবং শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বৈঠকে ব্রিটিশ কাউন্সিলের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির ‘গ্রোথ মার্কেট’ বিভাগের পরিচালক হ্যারিয়েট গার্ডনার এবং ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্ব। এ সময় উভয় পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন আনতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আলোচনার মূল ফোকাস ছিল বাংলাদেশের ইংরেজি শিক্ষার বর্তমান কারিকুলাম বা শিক্ষাক্রম পরিমার্জন ও যুগোপযোগী করা। এছাড়া দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়ন এবং আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতিতে দক্ষ করে তুলতে ব্রিটিশ কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বিশেষ সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিশেষ করে দেশের প্রচলিত বাংলা মাধ্যম এবং ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাক্রমের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব কমিয়ে সমন্বয় সাধনের বিষয়ে উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করে।
বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি যুগোপযোগী ও বৈশ্বিক মানসম্পন্ন রূপান্তরের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা ব্রিটিশ কাউন্সিলের এই প্রস্তাবনা এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার আশ্বাসকে স্বাগত জানান। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল উল্লেখ করে যে, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এই লক্ষ্য অর্জনে ব্রিটিশ কাউন্সিলের মতো অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক সংস্থার কারিগরি সহযোগিতা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়নে যৌথভাবে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে দৃঢ় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই আলোচনার সফল বাস্তবায়ন ঘটলে বাংলাদেশের ইংরেজি শিক্ষা ও শিক্ষক প্রশিক্ষণে বড় ধরনের গুণগত পরিবর্তন আসবে।