1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হওয়া উচিত: সমাজকল্যাণমন্ত্রী ফরিদপুরে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল উদ্ধার টানা তিন দফায় কমলো স্বর্ণের দাম, ভরিতে কমলো ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে অডিট সনদের বাধ্যবাধকতা বাতিল যুক্তরাজ্যে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে ব্রিটিশ কাউন্সিলের বৈঠক ঈদুল আজহায় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে বিশেষ ট্রেন ও অতিরিক্ত বগি সংযোজনের সিদ্ধান্ত গ্রিনল্যান্ডে স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি ও ভেটো ক্ষমতা চায় ট্রাম্প প্রশাসন: রুদ্ধদ্বার বৈঠক ফাঁস রাশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য সালাহকে অধিনায়ক করে মিশরের ২৭ সদস্যের দল ঘোষণা অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার গ্রানিত জাকার নেতৃত্বে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে সুইজারল্যান্ড ইবোলার টিকা বাজারে আসতে আরও ৯ মাস লাগতে পারে: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

গ্রিনল্যান্ডে স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি ও ভেটো ক্ষমতা চায় ট্রাম্প প্রশাসন: রুদ্ধদ্বার বৈঠক ফাঁস

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
  • ১৫ বার দেখা হয়েছে

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন গ্রিনল্যান্ডের ওপর দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। ইরানের সঙ্গে চলমান আন্তর্জাতিক সংঘাতের মধ্যেও আর্কটিক অঞ্চলে নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র, গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের মধ্যে ওয়াশিংটনে গোপন আলোচনা চলছে। গত চার মাস ধরে চলা এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের তথ্য ফাঁসের পর বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন এমন একটি কৌশলগত সমঝোতা চাইছে যার আওতায় গ্রিনল্যান্ড ভবিষ্যতে পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করলেও সেখানে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি এবং বড় ধরনের বিদেশি বিনিয়োগের ওপর আমেরিকার ‘ভেটো’ ক্ষমতা বহাল থাকবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনে ওয়াশিংটন, কোপেনহেগেন ও নুুকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই গোপন আলোচনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর প্রধান উপদেষ্টা মাইকেল নিডহ্যামের নেতৃত্বে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে ওয়াশিংটনে অন্তত পাঁচবার এই ত্রিপক্ষীয় রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আলোচনার অন্যতম মূল উদ্দেশ্য ছিল গ্রিনল্যান্ডে ট্রাম্পের পূর্ববর্তী সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি থেকে সরে এসে একটি কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করা, যাতে ন্যাটো জোটের শরিকদের মধ্যে সম্ভাব্য বড় ধরনের ফাটল এড়ানো যায়। হোয়াইট হাউসের একটি সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রশাসন বর্তমানে ব্যস্ত থাকলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত সম্পদ ও ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছেন।

প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র মূলত ১৯৫১ সালের একটি দ্বিপক্ষীয় সামরিক চুক্তি সংশোধনের জন্য ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ওয়াশিংটন এই চুক্তিতে একটি ‘ফরএভার ক্লজ’ বা চিরস্থায়ী ধারা যুক্ত করতে চায়। এর ফলে গ্রিনল্যান্ড যদি ডেনমার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোনোদিন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশও করে, তাহলেও মার্কিন সেনারা অনির্দিষ্টকালের জন্য দ্বীপটিতে অবস্থান করতে পারবে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাধারণ গ্রিনল্যান্ডবাসীরা একে কার্যত ‘স্থায়ী সামরিক নিয়ন্ত্রণ’ হিসেবে দেখছেন, যা তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে স্থায়ীভাবে খর্ব করতে পারে। এর পাশাপাশি পেন্টাগন ইতোমধ্যে তার সামরিক অবকাঠামো সম্প্রসারণের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে। মার্কিন নর্দার্ন কমান্ডের প্রধান জেনারেল গ্রেগরি এম. গুইলোট জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ায় এলাকাটি এখন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির প্রধান ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আলাস্কা ও কানাডার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্ত করে একটি অভিন্ন রাডার ও সামরিক ঘাঁটি চেইন গড়ে তুলতে চায় পেন্টাগন। বিশেষ করে দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডের নারসারসুয়াক এলাকায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার পরিত্যক্ত বিমানবন্দর, বন্দর এবং সম্ভাব্য নতুন গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সম্প্রতি মার্কিন মেরিন কর্পসের কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল সেখানে পরিদর্শন করেছে।

সামরিক উপস্থিতির পাশাপাশি এই আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। মার্কিন প্রস্তাব অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডে যেকোনো ধরনের বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণ বা বিদেশি বিনিয়োগ চুক্তির ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনকে একটি চূড়ান্ত ‘ভেটো’ বা সিদ্ধান্ত বাতিলের ক্ষমতা দিতে হবে। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের মতো মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ বন্ধ করা। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের মাটির নিচে থাকা বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের ওপরও নজর রয়েছে আমেরিকার। বরফের নিচে চাপা পড়ে থাকা তেল, ইউরেনিয়াম এবং আধুনিক প্রযুক্তির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ‘রেয়ার আর্থ’ বা বিরল খনিজ সম্পদের ভবিষ্যৎ উত্তোলনে অংশীদারিত্ব চায় ট্রাম্প প্রশাসন।

তবে মার্কিন প্রশাসনের এসব প্রস্তাবকে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখছেন স্থানীয় নেতারা। যদিও ডেনমার্ক ও মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন যে দ্বীপটির প্রায় ৫৭ হাজার বাসিন্দাই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন, কিন্তু স্থানীয় রাজনীতিতে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্ট সদস্য জাস্টাস হ্যানসেন এই আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করে বলেন, আমেরিকানরা যদি তাদের সমস্ত দাবি আদায় করে নিতে সক্ষম হয়, তবে গ্রিনল্যান্ডের পক্ষে কখনোই প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জন করা সম্ভব হবে না। গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক মহল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আগামী ১৪ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্মদিনকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই গোপন দরকষাকষির ফলাফল কেবল গ্রিনল্যান্ডের ভাগ্যই নির্ধারণ করবে না, বরং সমগ্র আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে দীর্ঘমেয়াদে বদলে দিতে পারে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026