নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ঘরমুখী মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে একটি বিশেষ স্পেশাল ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নয়টি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রী ধারণক্ষমতা বাড়াতে অতিরিক্ত কোচ বা বগি সংযোজন করা হবে। আগামী ২৩ মে থেকে শুরু হয়ে ৭ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে এই বিশেষ সেবা কার্যকর থাকবে বলে রেলওয়ে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঈদুল আজহার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঢাকার জয়দেবপুর থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মধ্যে বিশেষ স্পেশাল ট্রেনটি চলাচল করবে। উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীদের ঈদযাত্রা নিরাপদ ও আরামদায়ক করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই রুটের নিয়মিত ট্রেনগুলোর ওপর চাপ কমাতে বিশেষ এই ট্রেনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিয়মিত আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর বহরে শোভন ও এসি উভয় শ্রেণির কোচ যুক্ত করা হবে। এর মধ্যে নীলফামারী রুটের নীলসাগর এক্সপ্রেস ও সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসে ২৩ মে থেকে ৬ জুন পর্যন্ত অতিরিক্ত বগি যুক্ত থাকবে। ট্রেনগুলোতে ঈদের আগে একটি এবং ঈদের পরে দুটি করে অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হবে, যার মধ্যে একটি শোভন ও একটি এসি বগি থাকবে।
এ ছাড়া রাজশাহী রুটের অন্যতম জনপ্রিয় ট্রেন বনলতা এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, পদ্মা এক্সপ্রেস ও ধূমকেতু এক্সপ্রেসেও অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত দ্রুতযান এক্সপ্রেস, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ও একতা এক্সপ্রেসে ঈদের আগে ও পরে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে। তবে ঈদুল আজহার প্রস্তুতিমূলক সূচির কারণে আগামী ২৭ মে ৭৯৩ নম্বর পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি চলাচল করবে না বলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সময়সূচি অনুযায়ী, ঈদের আগে ২৩ মে থেকে ২৭ মে এবং ঈদের পরে ২৯ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত ট্রেনগুলো বর্ধিত যাত্রী নিয়ে চলাচল করবে।
এদিকে ঈদযাত্রার এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পুরোদমে চলছে পুরনো কোচ মেরামতের কাজ। কারখানার শ্রমিক ও কর্মচারীরা নির্ধারিত কর্মঘণ্টার বাইরেও অতিরিক্ত সময় দিয়ে কোচগুলো চলাচলের উপযোগী করছেন। ঈদে বাড়তি যাত্রীর চাপ সামাল দিতে এসব কোচ রেলবহরে যুক্ত করা হচ্ছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ জানান, এবারের ঈদযাত্রায় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন রুটে যাত্রী পরিবহনের জন্য কারখানায় মোট ১২৭টি কোচ প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ১০৩টি কোচ পাকশী ও লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অবশিষ্ট ২৪টি কোচ আগামী কয়েক কর্মদিবসের মধ্যে রেলের ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ঘরমুখী মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জয়দেবপুর-পার্বতীপুর রুটে স্পেশাল ট্রেন চালুর পাশাপাশি নয়টি আন্তঃনগর ট্রেনে অতিরিক্ত বগি যুক্ত করা হচ্ছে। যাত্রীদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে শোভন ও এসি উভয় শ্রেণির বগিই বাড়ানো হয়েছে। ঈদের আগে ও পরে যাত্রীচাপের ভিন্নতা অনুযায়ী বগির সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে।