রাজধানী ডেস্ক
দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও ডিজে সনিকা হেপাটাইটিস এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে তিনি বনানীর ইয়র্ক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজেই তাঁর এই অসুস্থতার তথ্য প্রকাশ করেন। সম্প্রতি হেপাটাইটিস ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক তরুণ অভিনেত্রীর মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটার আগেই নতুন করে এই জনপ্রিয় শিল্পীর অসুস্থতার খবর এলো।
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন সনিকা। পরবর্তীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর শরীরে হেপাটাইটিস এ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। তাঁর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সহকর্মী এবং ভক্ত-অনুরাগীরা দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বার্তা দিচ্ছেন।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, হেপাটাইটিস এ হলো একটি লিভারের রোগ যা মূলত হেপাটাইটিস এ ভাইরাসের কারণে ঘটে থাকে। এই ভাইরাসটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং সাধারণত দূষিত খাদ্য বা পানির মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। চিকিৎসকেরা জানান, এই রোগে আক্রান্ত হলে সাধারণত জন্ডিস, ক্ষুধামন্দা, ক্লান্তি, বমি বমি ভাব এবং পেটে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে এবং লিভারের জটিলতা বাড়লে এটি মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে পেশাদার ডিজে হিসেবে সংগীতাঙ্গনে কর্মজীবন শুরু করেন সনিকা। গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলাদেশের বিনোদন জগতে সক্রিয় রয়েছেন। ২০১১ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ডিজে সংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে তিনি ঢালিউড চলচ্চিত্র ও সংগীত পুরস্কারে ‘শ্রেষ্ঠ বাংলাদেশি মহিলা ডিজে’ হিসেবে সম্মানিত হন।
কেবল ডিজে হিসেবেই নয়, পরবর্তীতে তিনি কণ্ঠশিল্পী এবং অভিনেত্রী হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন। ২০১৪ সালে তাঁর প্রথম একক মিউজিক ভিডিও ‘ভাল্লাগে’ প্রকাশিত হয়। এরপর ২০১৫ সালে তিনি টেলিভিশন নাটকে অভিনয় শুরু করেন। তাঁর অভিনীত ‘লাস্ট সিকোয়েন্স’ এবং ‘থ্রিপল এফ’ নাটক দুটি সে সময় দর্শকদের মাঝে বেশ সমাদৃত হয়েছিল।
সম্প্রতি বাংলাদেশে হেপাটাইটিস ভাইরাসের সংক্রমণ এবং এর ফলে সৃষ্ট জটিলতা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কিছুদিন আগেই হেপাটাইটিস এ এবং ই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার মৃত্যুবরণ করেন। একের পর এক বিনোদন অঙ্গনের ব্যক্তিত্বরা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সামগ্রিক স্বাস্থ্য সচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পায়। এই সময়ে বাইরের খোলা খাবার পরিহার করা, নিরাপদ ও ফুটানো পানি পান করা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মাধ্যমে হেপাটাইটিস এ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দিলে কবিরাজি বা ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।