আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের বিষয়ে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে সেখানে ওয়াশিংটনের জন্য ‘অনেক চমক’ অপেক্ষা করছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। বুধবার এক বক্তব্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, মার্কিন কংগ্রেসই স্বীকার করেছে যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস পর যুক্তরাষ্ট্র বিলিয়ন ডলার মূল্যের বহু আধুনিক যুদ্ধবিমান হারিয়েছে।
আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীই বিশ্বের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বহুল আলোচিত এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। চলমান ও বিগত সংঘাতগুলো থেকে ইরানের সামরিক বাহিনী যে বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন করেছে, তা ভবিষ্যতের যেকোনো যুদ্ধে প্রয়োগ করা হবে। এর ফলে যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে আরও বড় ধরনের সামরিক বিস্ময় বা পাল্টা আঘাত দেখা যাবে বলে তিনি মার্কিন প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দেন।
মধ্যপ্রাচ্যে এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ইরানের পক্ষ থেকে আসা সর্বশেষ পাল্টা যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতার প্রস্তাবে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। তেহরানের এই অবস্থানকে ওয়াশিংটন ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে না, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এই স্থবিরতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নীতি-নির্ধারণী মহলে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির আভাস পাওয়া গেছে। গত সোমবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক করেন। উক্ত বৈঠকে ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক দাবি এবং কৌশলগত অবস্থানের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন বিকল্প ও পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই প্রকাশ্য সামরিক দাবি এবং মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে পাল্টা সামরিক বিকল্প নিয়ে আলোচনার বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন ও দীর্ঘমেয়াদি ভূ-রাজনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে এফ-৩৫-এর মতো পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ইরানি দাবি যদি সত্য হয়ে থাকে, তবে তা বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সামরিক বিকল্পের প্রস্তুতি এই অঞ্চলে নতুন করে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।