জাতীয় ডেস্ক
পটুয়াখালীর দুমকি ও বাউফল উপজেলাকে সংযুক্ত করতে লোহালিয়া নদীর বগা ফেরিঘাট এলাকায় প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে লোহালিয়া নদীর বগা ফেরিঘাট এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ অথবা আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে।
এদিন দুপুরে দুমকি উপজেলার চরগরবদী ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এ আশ্বাস দেন। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু’ নামে এটি নির্মাণ করা হবে। মূলত বাউফলের দাসপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আবিরার একটি চিঠির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিনি এই এলাকা পরিদর্শনে আসেন। ওই শিক্ষার্থী লোহালিয়া নদীতে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল।
প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, চীন সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে সেতুর বিস্তৃত নকশা (ডিটেইলড ডিজাইন) চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ অংশের পক্ষ থেকে ভূমি অধিগ্রহণ, প্রাক-প্রস্তুতি ও অ্যালাইনমেন্ট নির্ধারণের কাজ শেষ করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে। আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে চীনের সাথে আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর চীনা কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত নকশা পাঠালে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বাংলাদেশ সরকার সম্মতি জ্ঞাপন করবে। প্রকল্পের সম্পূর্ণ অর্থায়ন চীন সরকার করার কারণে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত হবে এবং বাংলাদেশ সরকার এর সার্বিক সুপারভিশন বা তদারকি করবে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, রেলপথ, নৌপথ ও সড়কপথের সমন্বিত উন্নয়নই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। এই সেতুটি নির্মিত হলে পটুয়াখালীর দুমকি ও বাউফল উপজেলার বিশাল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি সঞ্চার হবে।
পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী এবং পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।