বাংলাদেশ ডেস্ক
লিবিয়ার গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার বা ডিটেনশন ক্যাম্পে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশে ফিরেছেন ১৭০ জন বাংলাদেশি নাগরিক। মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোর ৫টায় বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। সরকারি উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) যৌথ সহায়তায় এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দেশে ফেরা এই নাগরিকদের মধ্যে ১৯ জন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই বৃহৎ প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি লিবিয়ার স্থানীয় প্রশাসন এবং আইওএম এই বন্দি অভিবাসীদের মুক্তি ও যাতায়াত নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে নিবিড় সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে লিবিয়ায় আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার যে ধারাবাহিক প্রক্রিয়া চলছে, এটি তারই অংশ।
লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে আটকে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্রুত এবং নিরাপদ উপায়ে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। দূতাবাস কর্মকর্তারা নিয়মিত বিরতিতে ত্রিপলীর তাজুরা এবং বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করছেন। সেখানে আটক থাকা বাংলাদেশিদের সাথে সরাসরি কথা বলে সাক্ষাৎকার গ্রহণের মাধ্যমে তাদের প্রকৃত নাগরিকত্ব ও পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এই কঠোর ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেই লিবিয়া সরকারের আইনি অনুমোদন নিয়ে আইওএম-এর সহায়তায় তাদের বাংলাদেশে বিমান যাত্রার ব্যবস্থা করা হয়।
বিমানবন্দরে নামার পর দেশে ফেরা অভিবাসীদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক সহায়তা প্রদান করে সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতর এবং বিভিন্ন সেবামূলক সংস্থা। বিশেষ করে অসুস্থ অবস্থায় ফেরা ১৯ জন বাংলাদেশির শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাদের বিমানবন্দর থেকেই প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি জরুরি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা হয়েছে। দীর্ঘদিন যুদ্ধবিধ্বস্ত এবং অস্থিতিশীল একটি দেশে বন্দি অবস্থায় থাকায় অনেকের মাঝেই মানসিক ও শারীরিক নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিবিয়ায় আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার এই মানবিক মিশন এখানেই শেষ হচ্ছে না। আগামী ২৪ ও ৩১ মে লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টার থেকে আরও অন্তত ৩৫০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনার সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। দূতাবাস এবং আইওএম যৌথভাবে এই আসন্ন গ্রুপগুলোর ছাড়পত্র এবং যাতায়াতের বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে বর্তমানে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশ সরকারের এই জোরালো ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে বিদেশে বিপদে পড়া নাগরিকদের আইনি ও মানবিক অধিকার সুরক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে মানবপাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে যারা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন, তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের সরকারি উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো নাগরিক এভাবে অবৈধ পথে পা বাড়িয়ে বিদেশে বন্দি দশা কিংবা জীবনঝুঁকিতে না পড়েন, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে।