অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার মূল্যে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সমন্বিত মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। বাজুসের নির্ধারিত এই নতুন মূল্য তালিকা গত শনিবার সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে এবং আজ মঙ্গলবারও বাজারে একই মূল্যে স্বর্ণ কেনাবেচা চলছে।
বাজুস সূত্রে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ বাজারে খাঁটি স্বর্ণের দাম ওঠানামার ওপর ভিত্তি করে নিয়মিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। এবারও স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের দরপতনের বিষয়টি বিবেচনা করে ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটির মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটি। দেশের বাজারে এর আগে গত শুক্রবারও স্বর্ণের দাম একদফা কমানো হয়েছিল। সে সময় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৫ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ পর পর দুই দফায় স্বর্ণের মূল্যে বড় অঙ্কের পতন ঘটল, যা দেশের জুয়েলারি ব্যবসায় বিশেষ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘোষিত নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, শুধু ২২ ক্যারেটই নয়, বরং সব মানের স্বর্ণের দামই আনুপাতিক হারে কমানো হয়েছে। এখন থেকে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ১৪১ টাকা কমে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা হ্রাস পেয়ে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৯১৬ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা নির্ধারণ করেছে বাজুস। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা এবং স্থানীয় বাজারের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই দর সমন্বয় অপরিহার্য ছিল বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি বাজুস দেশের বাজারে রুপার দামও পুনর্নির্ধারণ করেছে। মানভেদে রুপার দামও আগের চেয়ে বেশ কিছুটা কমেছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকায়। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা হ্রাস করে ৩ হাজার ৪৪১ টাকা ধার্য করা হয়েছে। রুপার এই মূল্যহ্রাস অলংকার তৈরিতে সাধারণ ক্রেতাদের কিছুটা স্বস্তি দেবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মহামূল্যবান এই ধাতুগুলোর দাম কমায় স্থানীয় বাজারে অলংকার কেনাবেচায় গতি ফিরতে পারে। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুম বা উৎসবের সময়ে ক্রেতারা এই মূল্য হ্রাসের সুফল পাবেন। তবে একই সঙ্গে তারা এও মনে করেন যে, স্থানীয় তেজাবী স্বর্ণের বাজার দর যেভাবে নিয়মিত পরিবর্তিত হচ্ছে, তাতে করে আগামী দিনগুলোতে বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ জোগানের ওপর নির্ভর করে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও পুনর্নির্ধারিত হতে পারে। বাজুস সারা দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই নতুন মূল্য তালিকা কঠোরভাবে মেনে ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশনা প্রদান করেছে।