আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলার একটি নির্ধারিত শুনানি আবারও স্থগিত করা হয়েছে। বিবাদীপক্ষের জরুরি আবেদনের পরিপ্রক্ষিতে সোমবার সকালের নির্ধারিত এই শুনানি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির একটি আদালত। বিবাদীপক্ষের আইনজীবীরা আদালতের কাছে অবিলম্বে শুনানি স্থগিতের এই আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানান।
আদালতে দাখিল করা নথিতে নেতানিয়াহুর অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে গোপনীয় ‘নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি’ উল্লেখ করা হয়েছে। বিবাদীপক্ষ আদালতকে জানায়, এই সংক্রান্ত বিস্তারিত ও সংবেদনশীল তথ্য একটি সিলগালা খামের মাধ্যমে বিচারক ও রাষ্ট্রপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নেতানিয়াহু প্রথমবার এই মামলায় আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। তবে এরপর থেকে বিভিন্ন কারণে তার জেরা ও শুনানির ধারাবাহিক প্রক্রিয়া বারবার বিঘ্নিত হচ্ছে।
২০২০ সালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে তিনটি পৃথক মামলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে এই মামলার গতিপ্রকৃতি বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। গত ২০২৫ সাল থেকে চলতি ২০২৬ সাল পর্যন্ত নেতানিয়াহুর আইনি সহায়তাকারী দল যুদ্ধকালীন জরুরি পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ব্যস্ততা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে একাধিকবার শুনানি পেছানোর আবেদন করেছে, যা আদালত কর্তৃক গৃহীত হয়।
আইনজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বারবার শুনানি স্থগিত হওয়ার ফলে এই হাই-প্রোফাইল মামলার চূড়ান্ত রায় পেতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। রাষ্ট্রপক্ষ এই প্রক্রিয়াকে দ্রুত শেষ করতে চাইলেও আইনি জটিলতা এবং দেশের বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে বিচারিক কার্যক্রমের গতি ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে, সমালোচক ও বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের দাবি, নেতানিয়াহু বিচারিক প্রক্রিয়া থেকে রেহাই পেতে বা সময়ক্ষেপণ করতে দেশের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছেন। তবে নেতানিয়াহু এবং তার দল শুরু থেকেই সব ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন। আদালতের পরবর্তী শুনানির তারিখ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।