ক্রীড়া প্রতিবেদক
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগের এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বায়ার্ন মিউনিখকে পরাজিত করেছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। ঘরের মাঠ পার্ক দে প্রিন্সেসে মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ৫-৪ গোলের ব্যবধানে জয় পেয়েছে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ের মাধ্যমে বায়ার্নের বিপক্ষে দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে ফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল লুইস এনরিকের শিষ্যরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। তবে ম্যাচের ১৭তম মিনিটে প্রথম লিড নেয় সফরকারী বায়ার্ন মিউনিখ। ডি-বক্সের ভেতর ফাউলের সুবাদে প্রাপ্ত পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আসরে এটি তার ১৩তম গোল। পিছিয়ে পড়ে গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে স্বাগতিকরা। চার মিনিট পরেই একক নৈপুণ্যে বায়ার্নের রক্ষণভাগ চূর্ণ করে বাঁকানো শটে গোল সমতায় ফেরান খিচা কাভারাস্কেইয়া।
ম্যাচের ৩১ মিনিটে স্বাগতিকদের পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করেন জোয়াও নেভেস। কর্ণার থেকে আসা বলে নিখুঁত হেডে বল জালে জড়ান তিনি। তবে বিরতির আগে ম্যাচে ফিরতে সক্ষম হয় বায়ার্ন মিউনিখ। ৪০তম মিনিটে মাইকেল ওলিসে দারুণ দক্ষতায় গোল করে স্কোরলাইন ২-২ করেন। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে আবারও পেনাল্টি পায় পিএসজি। সফল স্পট কিকে গোল করে দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়ে বিরতিতে যান ওসমান দেম্বেলে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে পিএসজি তাদের আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয়। ৫৬ মিনিটে খিচা কাভারাস্কেইয়া নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটি করেন। এর মাত্র দুই মিনিট পর ৫৮ মিনিটে দেম্বেলে পুনরায় বল জালে জড়ালে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৫-২। দ্রুত তিন গোলে পিছিয়ে পড়ে বায়ার্ন মিউনিখ দিশেহারা হয়ে পড়লেও অভিজ্ঞতার জোরে পুনরায় ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায়।
ম্যাচের ৬৫ মিনিটে ডিফেন্ডার ডায়েট উপমেকানোর হেডে ব্যবধান ৫-৩ এ নেমে আসে। এর ঠিক তিন মিনিট পর ৬৮ মিনিটে লুইস দিয়াজ আরও একটি গোল করলে ম্যাচটি চরম উত্তেজনায় রূপ নেয়। ৫-৪ স্কোরলাইনে দাঁড়িয়ে শেষ ২০ মিনিট বায়ার্ন সমতা ফেরানোর একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও পিএসজির রক্ষণভাগ তা প্রতিহত করে। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় এক গোলের ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে প্যারিসের ক্লাবটি।
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে পিএসজির সাম্প্রতিক রেকর্ড ছিল বেশ হতাশাজনক। সবশেষ পাঁচটি দেখায় তারা একবারও জয়ের মুখ দেখেনি। এই ঐতিহাসিক জয় পিএসজিকে মানসিক দিক থেকে অনেকটা এগিয়ে রাখবে। আগামী সপ্তাহে বায়ার্নের ঘরের মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় দ্বিতীয় লেগের ফিরতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। অ্যাওয়ে গোল এবং বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় পিএসজি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও, বায়ার্নের মাঠে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ লুইস এনরিকের দলের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পৌঁছানোর লড়াইয়ে এই জয়ের প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।