বিনোদন ডেস্ক
বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনে দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের অবস্থান সুসংহত রেখেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। গ্ল্যামার ও অভিনয়ের সমন্বয়ে অসংখ্য ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র ও প্রশংসিত কাজ উপহার দিলেও, এই দীর্ঘ পথচলায় মিমের টিকে থাকার মূল ভিত্তি ছিল ধৈর্য, নিয়মানুবর্তিতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে হাল না ছাড়ার মানসিকতা। সাম্প্রতিক সময়ে ক্যারিয়ারের চড়াই-উতরাই ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে এই অভিনেত্রী জানিয়েছেন, সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছানোর চেয়ে সেই অবস্থানটি ধরে রাখাটাই একজন শিল্পীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
২০০৭ সালে একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজে পদার্পণ করা মিম গত ১৫ বছরে নিজেকে বহুমাত্রিক চরিত্রে প্রমাণ করেছেন। তবে এই দীর্ঘ যাত্রাপথ সবসময় মসৃণ ছিল না। গ্ল্যামার জগতের তীব্র প্রতিযোগিতার বিষয়ে মিম মনে করেন, সাফল্যের প্রাথমিক ধাপ অতিক্রম করা তুলনামূলক সহজ হলেও দীর্ঘ মেয়াদে দর্শকদের ভালোবাসা ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন। তার মতে, এই প্ল্যাটফর্মে জয়ী হওয়ার জন্য যেমন পরিশ্রম করতে হয়, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি ত্যাগ ও প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয় অর্জিত অবস্থানটি টিকিয়ে রাখতে।
ক্যারিয়ারের শুরুতে অনেকেই দ্রুত জনপ্রিয়তা পেলেও সময়ের আবর্তে পেশাদারিত্বের অভাবে হারিয়ে যান। মিম এই হার না মানার মানসিকতাকে নিজের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে বিবেচনা করেন। শোবিজের মতো অনিশ্চিত এবং প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল একটি কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকার পেছনে তিনি কঠোর নিয়মানুবর্তিতা বা ডিসিপ্লিনকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তার দীর্ঘ পথচলার নেপথ্যে কাজের প্রতি একনিষ্ঠতা এবং প্রতিটি প্রজেক্টকে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করার মানসিকতাই তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যর্থতা বা প্রতিকূল পরিস্থিতি প্রতিটি পেশাজীবীর জীবনেই অনিবার্য। মিমের ক্যারিয়ারেও এমন অনেক সময় এসেছে যখন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি বা কাজ আশানুরূপ হয়নি। তবে সেই পরিস্থিতিতে তিনি কখনও ভেঙে পড়েননি। নেতিবাচকতাকে পেছনে ফেলে ইতিবাচক চিন্তার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিনিয়ত উৎসাহ প্রদান করেছেন। যখন কোনো কাজ প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি, তখন তিনি হাল ছেড়ে না দিয়ে নতুন উদ্যমে পরবর্তী কাজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। মিমের ভাষায়, ‘না’ বা ‘হচ্ছে না’—এমন শব্দকে আঁকড়ে না ধরে বরং বিকল্প কোনো সম্ভাবনার সন্ধানে থাকাটাই একজন পেশাদার শিল্পীর লক্ষণ।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও নাটক উভয় মাধ্যমেই মিমের বিচরণ অত্যন্ত শক্তিশালী। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্রে তার অভিনয় দর্শকদের নতুন করে মুগ্ধ করেছে। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসেও তিনি মনে করেন, একজন শিল্পীকে সবসময় শিখতে হয় এবং সময়ের সাথে নিজেকে আধুনিক করতে হয়। মিমের এই সংগ্রামী ও ধৈর্যশীল দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমান প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে।
মূলত কঠোর পরিশ্রম এবং ব্যক্তিগত জীবনের সুশৃঙ্খল চর্চাই মিমকে দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে শোবিজের প্রথম সারির অভিনেত্রী হিসেবে টিকিয়ে রেখেছে। প্রতিকূলতাকে সম্ভাবনা হিসেবে দেখার এই জীবনবোধই তার দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে। ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাতেও এই একই মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী।